সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চায় সরকার - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চায় সরকার

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি। সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে চায় সরকার। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সব শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে টিকার নিবন্ধন করতে অনুরোধ করেছে সরকার।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩৯ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ১৮ লাখেরও কম শিক্ষার্থী টিকা পেতে অনলাইনে ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ নিবন্ধন করেছে বা করতে পেরেছে। নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী প্রথম ডোজ ও ৯০ হাজার শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে। এ হিসেবে এখনও টিকা পায়নি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী। আর এখনও ২১ লাখ শিক্ষার্থীর টিকা নিবন্ধন বাকি রয়েছে। এ কারণে খুব সহসাই সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের টিকাদান সম্পন্ন হচ্ছে সেটি বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদ প্রত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ন্যূনতম এক ডোজ হলেও করোনার টিকা দিতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিবন্ধনের দুই সপ্তাহের মধ্যে সবাইকে টিকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে করোনা টিকার জন্য ‘সুরক্ষা অ্যাপে’ নিবন্ধন করতে অনুরোধ করা হয়। বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন।

সভায় বলা হয়, নিবন্ধন সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে টিকা নিতে পারবে, আবার যে যেখানে আছেন স্থানীয় টিকাকেন্দ্রে গিয়েও টিকা নিতে পারবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরে যে কোন দিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারবে।

সরকার গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৯০ শতাংশকে টিকা দেয়ার পর স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শ্রেণী কার্যক্রম উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তবে এই স্তরের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানতে চাইলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত ‘জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি’র সদস্য ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘গণটিকা কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে ভালো হতো। সেটি হলে এখন সবাই টিকা পেয়ে যেতো। তবে মূল সমস্যা হলো- টিকার প্রাপ্যতা সংকট। একসঙ্গে বেশি টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প অল্প করে টিকা আসছে। এ কারণে সমস্যা হচ্ছে।’

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যদের বৈঠক শেষে ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান জানান, ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন কাজ শেষ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি বলে জানান ইউজিসি সচিব।

সভায় যুক্ত থাকা একজন উপাচার্য জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ্য থেকে বলা হয়েছে, সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবাইকে দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্তত প্রথম ডোজ টিকা দিয়ে হলেও ক্লাস রুমে ঢোকানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ১৬-১৭ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারবে।’ যদিও শিক্ষকদের বেশির ভাগই ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন।

সভায় ইউজিসির পক্ষ্য থেকে জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৯ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজার ২৬০টি কলেজেই শিক্ষার্থী রয়েছে ২৯ লাখ ৭৬ হাজারের মতো। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত (গতকাল) ১৭ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করেছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছে সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। আর দুই ডোজ নিয়েছে ৯০ হাজার শিক্ষার্থী।

ইউজিসি সচিব জানান, সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী অন্তত টিকার প্রথম ডোজ নিলে বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে তাদের আবাসন হল খুলে দিতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করে টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ১৫ অক্টোবরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানান সচিব।

বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) আছে অথচ টিকা নেননি তারা ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা নেবে। যাদের এনআইডি নেই তারা জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে শিক্ষার্থী হিসেবে ইউজিসি ওয়েবলিংকে প্রবেশ করে ‘শিক্ষার্থী নিবন্ধন’ সম্পন্ন করবে। ‘শিক্ষার্থী নিবন্ধন’ সম্পন্ন করার পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন সম্পন্ন করবে।

তবে যাদের জন্মসনদও নেই তারা আগে জন্মসনদ করে নিয়ে তারপর শিক্ষার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করবে। ‘শিক্ষার্থী নিবন্ধনের’ পর সুরক্ষা অ্যাপে টিকার নিবন্ধন করে টিকা নিতে হবে। যদি কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বছরের কম হয় সে ক্ষেত্রেও জন্ম সনদ ব্যবহার করে ‘শিক্ষার্থী নিবন্ধন’ সম্পন্ন করে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে পারবে।

নিবন্ধন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে টিকা নিতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা দেয়া সম্পন্ন করতে কারিগরি সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৬ আগস্ট করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত ‘টেকনিক্যাল কমিটি’র সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। এতে ধাপে ধাপে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

তখন জানানো হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় খোলা শুরু হবে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে। তবে এর আগে সব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিকা সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে ইউজিসিতে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ টিকার আওতায় আসবে সেগুলো আগে খুলবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান জানান, ৩০ অক্টোবরের আগে তাদের শিক্ষার্থীদের হলে আনার পরিকল্পনা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কাউন্সিল অনুমোদন করলে হয়তো এক সপ্তাহ আগে হল খুলে দেয়া যেতে পারে।

বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষাও চলছে, তা ২৭ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। কোন শিক্ষার্থী যদি করোনার কারণে চলমান পরীক্ষা দিতে না পারে, তাহলে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর তাদের সেই সুযোগ দেয়া হবে। এজন্য আরও দু’তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। সময়সূচি অনুযায়ী আমাদের নতুন টার্ম শুরু হওয়ার কথা ৩০ অক্টোবর।’

ড. মিজানুর রহমান জানান, বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন। বাকিরা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে টিকা নিয়ে নেবেন বলে তারা আশা করছেন।

ইউজিসি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত দুই হাজার ২৬০টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদযাপন করা হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদযাপন করা হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওপর ফের চড়াও রাজশাহী বোর্ড কর্মচারীরা - dainik shiksha শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওপর ফের চড়াও রাজশাহী বোর্ড কর্মচারীরা ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর - dainik shiksha ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর এসএসসি পরীক্ষা শুরু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষা শুরু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না এ বক্তব্য হাস্যকর : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না এ বক্তব্য হাস্যকর : শিক্ষামন্ত্রী ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী উপসচিবের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা - dainik shiksha উপসচিবের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা অবৈধ সম্পদ অর্জন : সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা - dainik shiksha অবৈধ সম্পদ অর্জন : সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা please click here to view dainikshiksha website