সরকারিভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত যেভাবে এলো - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

সরকারিভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত যেভাবে এলো

রুম্মান তূর্য |

প্রথামবারের মত সারাদেশের সব শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষক দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সর্বস্তরের শিক্ষকদের নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের উদ্যোগে এ বছর সরকারিভাবে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। এখন থেকে প্রতি বছরই দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সারাদেশে শিক্ষকরা যখন নিগৃহীত ও নির্যাতিত তখন সরকারিভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নানামূখী চাপে থাকা শিক্ষকরা যেন নিজেদের একা মনে না করেন সেজন্যই দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ দেয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

গত ৫ অক্টোবর ছিলো ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দেশের সব জেলা-উপজেলায় দিবসটি উদযাপিত হবে। তবে, আগামী বছরগুলোতে ২৭ অক্টোবর না হলেও দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা আছে অধিদপ্তরের। এবার কেন্দ্রীয়ভাবে ওসমানী মিলনায়তনে শিক্ষক দিবস উদযাপিত হবে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজধানীর সর্বস্তরের শিক্ষকরা অংশ নেবেন। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় র্যালির আয়োজন করা হবে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করতে পারে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো ঘোষিত 'শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা রূপান্তর শুরু' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসব কর্মসূচি উদযাপিত হবে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, কারিগরি, মাদরাসাসহ সব পর্যায়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে দিবসটি উদযাপন করা হবে।  

১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ইউনেস্কো ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করলেও বাংলাদেশে এ বছর প্রথমবারের মত সরকারিভাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এতো দিন পর কেনো দিবসটি সরকারিভাবে উদযাপিত হচ্ছে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, বলতে পারেন এটা আমাদের চিন্তা থেকে। শিক্ষকদের একটা দিবস আছে। কিন্তু সরকারিভাবে কেন উদযাপন করা হবে না, এই প্রশ্ন ঘুরছিলো। 

দৈনিক আমাদের বার্তার এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ অক্টোবর দূর্গাপূজার ছুটি থাকে। তাই ওইদিন চাইলেও করা যেত না। 

ফেসবুকে দেখা যায়, কোনো কোনো শিক্ষক সংগঠন দাবি করছে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারিভাবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দৈনিক আমাদের বার্তার এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ‘না, না, এটা একান্তই আমাদের চিন্তা থেকে। কোনো শিক্ষক নেতা বা সংগঠনের দাবিতে নয়। এটা অধিদপ্তরের উদ্যোগে। ‘  

তিনি বলেন, সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের নিয়ে আমরা একটি দিন উদযাপন করতে চাই। এজন্যই দিবসটি উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে, এ বছর তাড়াতাড়ি আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে আরও আড়ম্বরপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপনের পরিকল্পনা আছে। 

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরগুলোতেও শিক্ষক দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা আছে। আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যুক্ত করতে। সশরীরে বা ভার্চুয়ালি আমরা যদি তাঁদের অনুষ্ঠানে যুক্ত করতে পারি তাহলে অনুষ্ঠানের মাত্রা আরও বেড়ে যাবে।

সারাদেশে নানামূখী চাপে থাকা শিক্ষকরা যাতে নিজেদের একা মনে না করে সেজন্যই দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান মহপরিচালক। তিনি বলেন, দিবসটি উদযাপনের মূল্য উদ্দেশ্য- আমরা যারা শিক্ষকরা আছি তারা যেন পাশাপাশি কিছুটা সময় হাটতে পারি। আমাদের সারাদেশেই শিক্ষকরা নানাবিধ চাপের মধ্যে থাকে। কিছু কিছু শিক্ষকদের জন্য আমাদের বিব্রত হতে হয় তা সত্য, কিন্তু নানা চাপে আমাদের শিক্ষকরা আজ ক্লাসে উচ্চস্বরে কথাও বলতে পারেন না। তাদের নানাভাবে অপদস্ত করা হয়। তারা যেন নিজেদের একা বোধ না করেন, নিসঙ্গ বোধ না করেন, সেজন্যই এ আয়োজন। 

অধ্যাপক নেহাল আহমেদ আরও বলেন, একই দিনে না হলেও ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আশেপাশে আমরা দিবসটি আরও ঘটা করে উদযাপন করবো। ২৭ অক্টোবর না হলেও আগামী বছরগুলোতে ওয়ার্কিং ডেতে দিবসটি উদযাপন করতে চাই। অন্যান্য অনেক দেশই কিন্তু ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করতে পারে না। তারাও বিকল্প দিনে দিবসটি উদযাপন করে। আমাদের দেশে ৫ অক্টোবর পূজা থাকে। সেসময় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। আমরা চাইলে ৫ অক্টোবর দিবসটি উদযাপন করতে পারতাম না। 

তিনি আরও বলেন, এবার নিজস্ব অর্থায়নে আয়োজনের কথা বলা হলেও আগামী বছরগুলোতে আমরা চেষ্টা করবো একটা বাজেট আনতে। এ বছর আমার র্যালির ব্যানার অধিদপ্তর থেকে দিচ্ছি। আগামী বছরগুলোতে আরও একটু আয়োজন করে দিবসটি উদযাপন করতে চাই।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সব দপ্তর ও তাদের আওতাধীন জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দাপ্তরিক ও প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে শিক্ষক দিবস উদযাপন করবে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। মহানগরে অবস্থিত থানা শিক্ষা অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মহানগরীর আয়োজনে অংশগ্রহণ করবে। মহানগরের বাইরে অবস্থিত উপজেলা শিক্ষা অফিস ও অধীনস্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করবে।

শিক্ষক দিবস উদযাপনে সব স্তরের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে জেলা ও উপজেলাগুলোতে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হবে। কেন্দ্র থেকে সরবরাহকৃত নির্ধারিত ডিজাইনের ব্যানারে জেলা-উপজেলার নাম সংযোজন করে নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে র্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা নিতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব শিক্ষক শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন তাঁদেরকে সম্মান প্রদর্শন করে র্যালির প্রথম সারিতে রাখা যেতে পারে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাইলে নিজ উদ্যোগে তাদের প্রতিষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন ও সম্মাননা (উপহার, ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট) দিতে পারে। র্যালিটি বর্ণাঢ্য করার জন্য কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা ডিজাইনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড তৈরি করা যেতে পারে। র্যালিটি সুশৃঙ্খল করার জন্য স্কাউট বিএনসিসি ও গার্লগাইডসের সহায়তা নেয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে র্যালির পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে 'শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু' শিরোনামে আলোচনা সভার আয়োজন করা যেতে পারে। র্যালিটি বর্ণাঢ্য করার জন্য দেশীয় সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যান্ড, সংগীত, নাটিকা উপস্থাপন করা যেতে পারে। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ের গন্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে।

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গনে বা সুবিধাজনক স্থানে তিনটি গাছের চারা রোপণ করতে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এক্ষেত্রে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ভেষজ গাছের চারা রোপণ করতে বলা হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রেড ক্রিসেন্ট, সন্ধানী, বাঁধন ইত্যাদি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে রক্তদান কর্মসূচীর আয়োজন করতে পারবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ পেলেন পৌনে পাঁচ হাজার নতুন শিক্ষক - dainik shiksha চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশ পেলেন পৌনে পাঁচ হাজার নতুন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে পালাচ্ছেন জাল শিক্ষকরা - dainik shiksha চাকরি ছেড়ে পালাচ্ছেন জাল শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে পরিবর্তন - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব পদে পরিবর্তন সভাপতির বাড়িতে মাদরাসার নিয়োগ পরীক্ষা নয় - dainik shiksha সভাপতির বাড়িতে মাদরাসার নিয়োগ পরীক্ষা নয় শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় - dainik shiksha শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0099689960479736