সিলেবাস শেষ হবে কি না, জানেন না শিক্ষকরা - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

সিলেবাস শেষ হবে কি না, জানেন না শিক্ষকরা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে আট মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ছুটি শেষে চলতি শিক্ষাবর্ষের মাত্র ১১ দিন বাকি থাকবে। সে সময়েও বিদ্যালয় না খোলার সম্ভাবনাই বেশি। প্রায় এক মাস আগেই মাধ্যমিক পর্যায়ে পরবর্তী শ্রেণিতে ওঠা ও ফি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা পেয়েছে বিদ্যালয়গুলো। এখন তাদের অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটা চলবে। কিন্তু এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের কিভাবে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও টিউশন ফি নিয়ে সর্বশেষ নির্দেশনায় জটিলতা কাটেনি। শহরের নামিদামি বিদ্যালয়গুলোতে অনেক আগে থেকেই অনলাইন ক্লাস চলছে। তবে কবে চলতি শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস শেষ হবে তা জানেন না শিক্ষকরা। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়গুলোতে তালগোলের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (২২ নভেম্বর) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে আরও জানা যায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিটি বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে ওঠার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বলে না দেওয়ায় মূল্যায়নের কাজটি শুরু করতে পারছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলে দিয়েছি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রমোশন দেবেন।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বা পদ্ধতি মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরকেই ঠিক করে দিতে হবে। বিদ্যালয় যেহেতু বন্ধ, তাই শিক্ষার্থীদেরও ডাকার উপায় নেই। তাহলে কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে তা মন্ত্রণালয়কেই ঠিক করে তাঁদের জানাতে হবে। এরপর তাঁরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। যেহেতু শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে আর বেশি সময় বাকি নেই, তাই দ্রুতই এ ব্যাপারে নির্দেশনা জানাতে হবে।

জানা যায়, যেসব বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় শাখাই রয়েছে—সেখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। কারণ ওই বিদ্যালয়গুলো ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছে। একই সঙ্গে পরবর্তী শ্রেণিতে যে সবাই-ই উত্তীর্ণ হবে সেটাও বলে দিয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক শাখার ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছে না। অভিভাবকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষকরাও সমস্যায় পড়ছেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কিভাবে হবে সে ব্যাপারে টেকনিক্যাল কাজগুলো আমরা শেষ করেছি। এখন মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে বছর শেষেও ছুটি মিলছে না শিক্ষার্থীদের। অনেকেই করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঢাকায় আটকে থেকে বছর শেষে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাস চালু থাকায় সেটাও সম্ভব হচ্ছে না, যা নিয়েও শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

গত ১ নভেম্বর থেকে মাধ্যমিকের অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে তিন সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট। নির্ধারিত ছয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখনফল অর্জন করতে পারবে তা চিহ্নিত করছে বিদ্যালয়গুলো। এসব অ্যাসাইনমেন্ট ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। আবার স্কুলগুলো থেকেও তা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও আনাগোনা বাড়ছে। এই অ্যাসাইনমেন্টে কোনো মার্কিং করা যাবে না বলে বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্ট যেকোনো মাধ্যমে এমনকি ডাকযোগেও জমা দিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী যদি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করে সেখানের কোনো বিদ্যালয়েও তা জমা দেওয়া যাবে। আমি অনুরোধ করব, এই অ্যাসাইনমেন্ট করতে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো অনৈতিকতার আশ্রয় না নেয়।’

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি নিয়েও জটিলতা কাটছে না। গত বুধবার মাউশি অধিদপ্তর এক নির্দেশনায় জানায়, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি গ্রহণ করবে। কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পুনঃভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যাগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোনো ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

অভিভাবকরা বলছেন, টিউশন ফি নিয়ে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হলো না। যেসব ফি না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বছরের শুরুতেই পরিশোধ করা হয়েছে। সেগুলো এখন সমন্বয় করলে খুবই অল্প টাকাই হবে, এমনকি তাতে এক মাসের বেতনও হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে ভুল সংশোধনের সুযোগ - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে ভুল সংশোধনের সুযোগ আসছে বছর থেকেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রোগ্রামিং - dainik shiksha আসছে বছর থেকেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে প্রোগ্রামিং ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন ইবতেদায়ি ও দাখিল শিক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ - dainik shiksha ইবতেদায়ি ও দাখিল শিক্ষার্থীদের পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব মাদরাসা বোর্ডের - dainik shiksha ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব মাদরাসা বোর্ডের প্রতি স্কুলের তিন শিক্ষককে করতে হবে কৈশোরকালীন পুষ্টি প্রশিক্ষণ - dainik shiksha প্রতি স্কুলের তিন শিক্ষককে করতে হবে কৈশোরকালীন পুষ্টি প্রশিক্ষণ please click here to view dainikshiksha website