২১ কোটি টিকা কিনতে ব্যয় ১৬ হাজার কোটি টাকা - করোনা আপডেট - দৈনিকশিক্ষা

২১ কোটি টিকা কিনতে ব্যয় ১৬ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

দেশের জন্য ইতিমধ্যেই ২১ কোটি ডোজ করোনার টিকা কেনার চুক্তি করেছে সরকার। এই টিকা কেনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১ কোটি ডোজ টিকা দেশে এসেছে, যার বেশিরভাগই সরকারের কেনা এবং অল্পকিছু টিকা বৈশ্বিক জোট কোভ্যাক্স থেকে বিনামূল্যে পাওয়া। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত সরকারের টিকা কিনতে ডোজপ্রতি গড়ে ব্যয় হয়েছে ৭৬২ টাকা।

এর বাইরে আরও ৭ কোটি ডোজ টিকা কেনার পরিকল্পনা আছে সরকারের। অর্থাৎ সরকার মোট ২৮ কোটি টিকা কিনতে চায় এবং দেশের ১৪ কোটি মানুষকে টিকা দিতে চায়। সে হিসেবে প্রক্রিয়াধীন আরও ৭ কোটি ডোজ টিকা কিনতে সরকারের ব্যয় হবে (বর্তমান টিকার ব্যয় হিসাবে) আরও সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ২৮ কোটি টিকা কিনতে সরকারের ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।

এর বাইরে উড়োজাহাজে টিকা আনাসহ অন্যান্য খরচ এবং দেশে টিকা সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেওয়ার ক্ষেত্রেও একটা মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে। তবে এই ২৮ ডোজ টিকার ক্ষেত্রে এই তিন-চার ধরনের ব্যয়ে সরকারের ঠিক কী পরিমাণ অর্থ লাগবে, সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

গতকাল রবিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে অবশ্য গতকাল দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া করোনার টিকা কিনতে সরকারের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের এক অনুষ্ঠানে সচিব অবশ্য জানান, করোনার টিকা কিনতে সরকার এ পর্যন্ত ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। এ ছাড়া ২১ কোটি ডোজ টিকা কেনা নিশ্চিত হয়েছে। আরও ৮ কোটি ডোজ কেনা হচ্ছে। এই খরচের মধ্যে উড়োজাহাজে টিকা আনাসহ অন্যান্য খরচ ধরা হয়নি।

ওই অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে কোথায় কী ব্যয় হচ্ছে, মানুষের নিজস্ব ব্যয় কমাতে কী করা উচিতএই দুই বিষয়ে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। তবে সেখানে করোনার টিকা কিনতে এবং চিকিৎসায় সরকারে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বক্তব্য রাখলেও তিনি টিকা কিনতে সরকারের ব্যয় প্রসঙ্গে কোনো কথা বলেননি। এমনকি এর আগে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও করোনার টিকা কেনা বাবদ কী পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে তা প্রকাশ করেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেদিন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সংসদে অর্থ খরচের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি জানান, আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, সিসিজিপি ও প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসাপেক্ষে চীন, ভারত ও কোভ্যাক্স থেকে সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। নন-ক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার কারণে সংসদে অর্থ খরচের হিসাব প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।

পরে অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের কর্মকর্তারা করোনার টিকা কেনার ব্যাপারে সচিবের বক্তব্যের কিছুটা ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন এবং রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীও করোনার টিকা কেনার ব্যাপারে সঙ্গে কথা বলেন। 

 প্রতি ডোজের মূল্য গড়ে ৬-৭ ডলার : গতকাল রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সরকারের করোনার টিকা কেনার প্রক্রিয়া ও ব্যয় সম্পর্কে জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী  জানান, এ পর্যন্ত তিন দফা টিকা কেনা হয়েছে। চীনের সিনোফার্ম টিকা একবার সাড়ে ৭ কোটি ডোজ ও আরেক দফায় সাড়ে ১০ কোটি ডোজ এবং আরেক দফায় ভারত থেকে তিন কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনা হয়েছে। মোট প্রায় ২১ কোটি টিকা কেনা হয়েছে। এসব টিকার গড় মূল্য পড়েছে প্রতি ডোজ ৬-৭ ডলার করে। এর মধ্যে কিছু টিকা বেশি মূল্যে ও কিছু কম টাকায় কেনা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ২১ কোটি টিকা কেনার যে চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত সোয়া ১১ কোটি টিকা দেশে এসেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ বাংলাদেশ সরকার সরাসরি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে কিনেছে। সাড়ে ৭ কোটি সিনোফার্ম টিকা কেনা হয়েছে চীন থেকে। এখানে পুরো টাকা বাংলাদেশ দিয়েছে। আরেক দফায় চীন থেকে যে সাড়ে ১০ কোটি টিকা কেনা হয়েছে, সেটার দাম কিছুটা বেশি পড়েছে। এটা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। এক্ষেত্রে চীন বেশিরভাগ দাম বাংলাদেশ থেকে নিয়েছে, কিছু টাকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিয়েছে। ভারত থেকে তিন কোটি টিকা কেনা হয়েছে সবার প্রথমে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, টিকা দুই পদ্ধতিতে কেনা হয়েছেএকটি সরাসরি ও আরেকটি কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। কোভ্যাক্স থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দুইভাবে টিকা পেয়েছে। কিছু কিনতে হয়েছে ও কিছু বিনামূল্যে পেয়েছে দেশ। এখন পর্যন্ত চীনের যত সিনোফার্ম টিকা কোভ্যাক্স দিয়েছে এবং আরও দেবে, সেগুলো বাংলাদেশকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে কিনতে হয়েছে। এর বাইরে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যত ফাইজার, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্নাএগুলো সব বিনামূল্যে দিয়েছে কোভ্যাক্স। ভারত থেকে যে তিন কোটি টিকা কেনার চুক্তি হয়েছে, যেগুলো এসেছে সেগুলোর টাকা সব দেওয়া হয়েছে। কিছু অগ্রিম টাকাও দেওয়া আছে।

মন্ত্রী জানান, কেনার বাইরেও টিকা সংরক্ষণ, পরিবহন ও দিতেও একটা বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ হচ্ছে। যেসব লোক টিকা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সবাই সরকারি চাকরিজীবী না। তাদের টাকা দিতে হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এই ২১ কোটি টিকার বাইরে ঠিক এই মুহূর্তে নতুন করে টিকা কেনার চিন্তাভাবনা সরকারের নেই। যথেষ্ট টিকা আছে। যত প্রয়োজন, চুক্তির টিকা সব আসলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। এই মুহূর্তে আর কেনার প্রয়োজন মনে করি না।

আরও ৭ কোটি টিকা কিনতে চায় সরকার : গতকালের অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের কর্মকর্তারা  জানান, সরকার এ পর্যন্ত ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো টিকা কেনার চুক্তি করেছে। ২১ কোটি টিকার ব্যবস্থা হয়েছে। আরও ৭ কোটি টিকা কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪ কোটি মানুষকে দেওয়ার জন্য ২৮ কোটি টিকা কিনবে সরকার। টিকার কোনো অভাব হবে না। বর্তমানে টিকার অভাব হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সঙ্গে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেছে। টিকা কেনা নিয়ে বিশৃঙ্খলাও হয়নি। সফলভাবে টিকা কেনা গেছে ও দেওয়া হচ্ছে।

এসব কর্মকর্তা জানান, জনসংখ্যা অনুপাতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ টিকাদানে এখনো শীর্ষ অবস্থানে এবং বিশ্বব্যাপী ২৩ নম্বরে। আশা করছি আগামী তিন মাসে বিশ্বের টিকাদান দেশের তালিকায় ১৫ নম্বরে চলে যাবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাত কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে টিকা দেওয়া ও পরিবহন ব্যয়ের কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ডোজ : গত শনিবার পর্যন্ত দেশে চার ধরনের ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৬ ডোজ টিকা দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সম্পূর্ণ টিকা (দুই ডোজ) পেয়েছেন ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫১ হাজার ৪০৮ জন মানুষ এবং প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার ৮ জন। সবচেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে সিনোফার্ম টিকা৬ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৯ ডোজ। এরপর অ্যাস্ট্রাজেনেকা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩২ ডোজ, মডার্না ৫৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৭ ডোজ এবং ফাইজার ২০ লাখ ৯ হাজার ২৯৮ ডোজ দেওয়া হয়েছে। 

২০২২ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে স্কুলের ছুটির তালিকা আবরার হত্যা : ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, পাঁচ জনের যাবজ্জীবন - dainik shiksha আবরার হত্যা : ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড, পাঁচ জনের যাবজ্জীবন ১২ বছর পূর্ণ না হলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি নয় - dainik shiksha ১২ বছর পূর্ণ না হলে নবম শ্রেণিতে ভর্তি নয় সব বিভাগে ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha সব বিভাগে ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্কুলে ভর্তির আবেদনের সময় বাড়লো - dainik shiksha স্কুলে ভর্তির আবেদনের সময় বাড়লো চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ - dainik shiksha চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর দাবিতে শাহবাগে সমাবেশ শৈত্য প্রবাহ আসছে , তাপমাত্রা নামবে ৬ ডিগ্রিতে - dainik shiksha শৈত্য প্রবাহ আসছে , তাপমাত্রা নামবে ৬ ডিগ্রিতে সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চান আবরারের মা - dainik shiksha সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চান আবরারের মা please click here to view dainikshiksha website