‘সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীই শেষ ভরসা’ - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

‘সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীই শেষ ভরসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলের হুইপ অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেছেন, হাওর অধ্যুষিত প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই শেষ ভরসা।  

তিনি বলেন, এ জেলার মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উপহার দিচ্ছেন।

কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সবগুলো প্রতিষ্ঠানই দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা সদরকে বঞ্চিত করে দুই কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে এতোগুলো প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ রহস্যজনক।
জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে সুনামগঞ্জের সব মত ও পথের মানুষ আজ এক মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমরা আমাদের আস্থার জায়গা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি জানাতে এ ট্রাফিক পয়েন্টে আজ সমবেত হয়েছি। হাওরের সমস্ত মানুষের সুবিধার জন্য প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সুনামগঞ্জ জেলা সদরে স্থাপিত হয়। জেলা সদরের সঙ্গে সব উপজেলার যোগাযোগ রয়েছে, যোগ করেন পীর মিসবাহ।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জের পরিবর্তে জেলা সদরে স্থাপনের দাবিতে রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সুনামগঞ্জবাসী’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর মিসবাহ আরও বলেন, আপনাদের সন্তান ও প্রতিনিধি হিসেবে আমি কখনো রাজপথ ও সংসদে বোবা হয়ে থাকিনি, থাকবো না। গণমানুষের প্রাণের দাবি নিয়ে সংসদে সংশোধনী আনবো।  

এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ খণ্ডখণ্ড মিছিল নিয়ে যোগ দেন। একপর্যায়ে মানববন্ধন জনসমাবেশে রূপ নেয়। প্রতিবাদী মানুষের পদভারে ভরে ওঠে গোটা ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে তিন দিকের রাস্তা। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় জনস্রোতে।

সংসদ সদস্য পীর মিসবাহ আরও বলেন, সুনামগঞ্জের অধিকার বঞ্চিত মানুষেরা আজ বিক্ষুব্ধ। তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমি অতীতে কথা দিয়েছিলাম, মানুষের অধিকারের ব্যাপারে জাতীয় সংসদে ও রাজপথে কখনো বোবা নয়, সরব থাকবো। এ তাগিদ থেকে আমি জেলাবাসীর পক্ষে আজ রাজপথে দাঁড়িয়েছি। আমরা জানি শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত মেগা প্রকল্প যদি নিয়ে যাওয়া হয়, তবে শতবর্ষী এ সুনামগঞ্জ জেলা সদর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। এতে আমাদের ও প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের মৃত্যু হবে। হাওরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কোনো দিন শেষ হবে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী আপনার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনি শুধু শান্তিগঞ্জের মন্ত্রী নন। আপনি এ সুনামগঞ্জ তথা বাংলাদেশের মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আপনাকে সম্মান দিয়েছেন, আমরাও আপনাকে সম্মান করি। প্রধানমন্ত্রী হাওরের মানুষকে ভালোবেসে এ সুনামগঞ্জের উন্নয়নে প্রকল্প দেন, যা কোনো মন্ত্রী-এমপির দান-অনুদান নয়, এটা প্রধানমন্ত্রীর উপহার। আপনি সবকিছুই শান্তিগঞ্জে নিতে পারেন না। আপনি আমাদের প্রতি সুবিচার করুন, আমরা আপনাকে সম্মান করবো, স্মরণ রাখব। বঙ্গবন্ধুর মতো প্রধানমন্ত্রীও বলেন, আমার কাছে গোপালগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এক। প্রধানমন্ত্রীর এ দরদ, ভালোবাসা, উপহার নিয়ে কেউ অবিচার করতে পারেন না, বলেন তিনি। 

পীর মিসবাহ বলেন, যেহেতু হবিগঞ্জ, চাঁদপুরের বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন করে জেলা সদরে স্থাপন করা হচ্ছে, তাই আমি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম, আমাদের বিশ্ববিদ্যায়টিও যোগাযোগ সুবিধার দিক থেকে এগিয়ে থাকা সদরে স্থাপিত হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছিলাম যেন জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় হয়। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী শান্তিগঞ্জে প্রতিষ্ঠার লিখিত আবেদনই দেননি, কোন মৌজায় হবে, তাও নির্ধারণ করে দেন। সেদিন ব্যথিত হৃদয়ে সংসদ থেকে আমাকে বের হয়ে আসতে হয়েছিল। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য শিক্ষামন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন।  

সুনামগঞ্জে পরিকল্পনামন্ত্রীকে দেওয়া স্টেডিয়ামের সংবর্ধনা সভায়ও সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুরোধ করেছিলাম আমি। সংসদেও অনেক বলেছি। ৮ তারিখ সংসদে বিল পাসের জন্য উত্থাপিত হলে শান্তিগঞ্জ নয়, জেলা সদরে প্রতিষ্ঠার সংশোধনী দেব। একই সঙ্গে আমাদের শেষ ভরসার স্থল প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, সুনামগঞ্জের গণমানুষের প্রাণের দাবি গ্রহণ করে আমার সংশোধনীটি গ্রহণ করতে। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী মানুষের প্রাণের দাবি রাখবেন। আমার প্রতি তার অগাধ স্নেহ রয়েছে, যোগ করেন পীর মিসবাহ।

তিনি বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আপনি একজন সৎ ও সজ্জন মানুষ। সরকারের যে এতগুলো প্রতিষ্ঠান শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, আপনাকে যারা মৌজা উল্লেখ করে দেন, কোন মৌজায় কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে- সেসব মৌজায় নতুন করে ক্রয়সূত্রে কারা ভূমির মালিক হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখলে অনেক কিছুই আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বিরোধী দলের হুইপ আরও বলেন, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, বস্ত্র সচিব থাকতে ফণীভূষণ চৌধুরী ছাতকে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। কাজও অগ্রসর হয়। তিনি ক্যান্সারে মারা যান। এটা একদিন বিশ্ববিদ্যালয় হবে। সেটিও আজ শান্তিগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটা কী ন্যায় সঙ্গত? বিআরটিএ অফিস কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, দু’টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র মুজিব কেল্লা- সবগুলো প্রতিষ্ঠানই জেলা সদরকে বঞ্চিত করে হয় শান্তিগঞ্জ, না হয় শান্তিগঞ্জের পাশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে কারণে আমরা বসে থাকতে পারি না। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মেডিকেল কলেজও নামে জেলা সদরে হলেও শান্তিগঞ্জের দুই কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে।

জেলার মন্ত্রী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সব উপহার শান্তিগঞ্জে নিলে জনগণ মানবে না। যারা বিভ্রান্তি ছড়ান, আন্দোলন হলে বিশ্ববিদ্যালয় চলে যাবে, তারা জানেন না, এটা যাবে না। এটা প্রধানমন্ত্রীর দান। এখনো সময় আছে সদর জেলায় প্রতিষ্ঠার, যোগ করেন তিনি।  

এসময় পীর মিসবাহ জনগণের ন্যায্য দাবিতে গড়ে ওটা আন্দোলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, বিভ্রান্তির পথ ছেড়ে ঐক্যকে সুসংহত করার দাবি জানান।  

তিনি বলেন, আমাদের অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ আমাদের বেছে নিতে হয়েছে। যা কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর পক্ষে-বিপক্ষে নয়, জেলাবাসীর অধিকার আদায়ের পক্ষে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকারের পক্ষে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

পীর মিসবাহ পরিকল্পনামন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, রেললাইন দিন, ধাবারগাও সেতু দিন, সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির ভবন দিন, সব উপজেলায় উন্নয়ন দিন, সংবর্ধনা দেবো। এটা জেদাজেদি নয়, এটা মানুষের ন্যায্য দাবি, মেনে নিন। শিক্ষামন্ত্রী ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে বলুন, জেলা সদরে রাখতে। সম্মান পাবেন।
মানববন্ধনে অনেকের মধ্যে হাওর আন্দোলন নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সমছু, সাবেক প্যানেল ময়ের মনির উদ্দিন মনির, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ জুবের আহমদ অপু, জাপা নেতা আব্দুর রশিদ ও মানবাধিকার আন্দোলন নেতা ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন - dainik shiksha নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন টিউশন ফি দিতে হবে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও - dainik shiksha টিউশন ফি দিতে হবে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও একই রোল নিয়ে পরের ক্লাসে যাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা - dainik shiksha একই রোল নিয়ে পরের ক্লাসে যাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ৪৩তম বিসিএসে ১ হাজার ৮১৪ জন প্রার্থী নিয়োগের উদ্যোগ - dainik shiksha ৪৩তম বিসিএসে ১ হাজার ৮১৪ জন প্রার্থী নিয়োগের উদ্যোগ এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন - dainik shiksha এসএসসিতে পাঁচ বিষয়ে পরীক্ষা, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বন্টন যেভাবে - dainik shiksha ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় নম্বর বন্টন যেভাবে সাত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ - dainik shiksha সাত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার আসন বিন্যাস প্রকাশ ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে প্রাথমিকের ক্লাস রুটিন ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন please click here to view dainikshiksha website