কাগজে কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ - মাদরাসা - দৈনিকশিক্ষা

কাগজে কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি |

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি এতিমখানায় শুধুমাত্র কাগজে কলমে শিক্ষার্থী দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠান দুটি সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে তাদের ইচ্ছানুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসা ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের চর খেদাইমারী বায়তুল ক্কারার গোলাম হাবিব শিশু সদন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন ওই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের টাপুরচর দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসাটি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত হয়। অপরটি চর শৌলমারী ইউনিয়নের চর খেদাইমারী বায়তুল ক্কারার গোলাম হাবিব শিশু সদনটি স্থাপিত হয় ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে। এতিমখানা দুটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত।
  
টাপুরচর এতিমখানার কাগজে ১১৫ জন শিক্ষার্থীদের নাম থাকলেও সারেজমিনের প্রতিষ্ঠানে গেলে, আবাসিক শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া গেছে ১৫ জন। অথচ ১১৫ জন শিক্ষার্থীদের তালিকা দেখিয়ে শিক্ষার্থী জনপ্রতি খাবার, চিকিৎসা ও পোশাকের জন্য মাসে ২ হাজার করে বছরে প্রায় ২২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দের টাকা এতিমখানার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সমাজসেবার অসাদু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে টাকা উত্তোলন করা হয়। বিলের কাগজ তৈরি করার সময় উপজেলা ফিল্ড সুপার ভাইজার ও অফিস সহকারিকে  উৎকোচ দিতে হয়। সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী তাদের খাবার দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই চিত্র চর খেদাইমারী বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদনের।

টাপুরচর দারুল উলুম এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ভর্তি ১১৫ জন শিক্ষার্থী। 

এর মধ্যে ৬৫ জন শিক্ষার্থী পাশ্ববর্তী ইবতেদায়ি মাদরাসা, সরকারি প্রাথমিক ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনা করে। আবার মাঝে মধ্যে এতিমখানায় ফিরে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, অনেক ছাত্রের বাবা-মা বেঁচে আছে তা সত্য।

এতিমখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. আবু হোসেন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, বরাদ্দ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের খাবার দিয়ে কিছু অর্থ বেশি হয়, তা দিয়ে মাদরাসার উন্নয়নমূলক কাজ করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এতিমের নামে কোন টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। কেউ বললে তা মিথ্যা।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা ফিল্ড সুপার ভাইজার আব্দুল্লাহ্ হেল কাফি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, অর্থ নেয়ার বিষয় সম্পূর্ন মিথ্যা। আর এ বিষয়ে অফিস কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাসান সাদিক মাহমুদ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, যারা এতিম তারাই ভর্তি হয়েছেন। এখানে কোন অর্থ নয়ছয় হচ্ছে না। যদিও কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে এতিমখানার বিষয়ে ইউএনওকে অভিযোগ দেয়ার জন্যে বলেন তিনি।
 
কুড়িগ্রাম জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকুনুল ইসলাম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

শেহজাদ আমার ও বুবলীর সন্তান : শাকিব খান - dainik shiksha শেহজাদ আমার ও বুবলীর সন্তান : শাকিব খান ৪০তম বিসিএস : নন-ক্যাডার নিয়োগে নতুন নিয়ম আসছে - dainik shiksha ৪০তম বিসিএস : নন-ক্যাডার নিয়োগে নতুন নিয়ম আসছে ফাঁস ঠেকাতে প্রশ্ন ব্যবস্থাপনা বদলাচ্ছে - dainik shiksha ফাঁস ঠেকাতে প্রশ্ন ব্যবস্থাপনা বদলাচ্ছে মাদরাসা শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha মাদরাসা শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওর চেক ছাড় অনুমোদন ছাড়া কর্মরত ষাটোর্ধ্ব প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ - dainik shiksha অনুমোদন ছাড়া কর্মরত ষাটোর্ধ্ব প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ সভাপতি হতে সন্তানকে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি - dainik shiksha সভাপতি হতে সন্তানকে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি একইদিনে এসএসসি ও এমএড পরীক্ষা : শিক্ষকরা বিপাকে - dainik shiksha একইদিনে এসএসসি ও এমএড পরীক্ষা : শিক্ষকরা বিপাকে স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের এমপিওর চেক ছাড় please click here to view dainikshiksha website