দুর্নীতিতেই মত্ত শিক্ষা ক্যাডারের আতাউল - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

দুর্নীতিতেই মত্ত শিক্ষা ক্যাডারের আতাউল

এনামুল হক প্রিন্স |

কর্মজীবনের অর্ধেকই কাটিয়েছেন ঘুষ দুর্নীতির খনি হিসেবে পরিচিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে (ডিআইএ)। ২৯ বছরের কর্মজীবনের ১৫ বছরই তিনি নানা পদে এ অধিদপ্তরে কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেন।  বহুল আলোচিত-সামালোচিত এই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা হলেন আলহাজ অধ্যাপক মোহা. আতাউল হক খান চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও দুর্নীতি প্রমাণিত হলেও শোকজ আর তলব করেই দায় এড়িয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

বিতর্কিত আতাউল হক খান বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এর আগে রাজবাড়ীর পাংশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে অনিয়ম ও দুর্নীতির এন্তার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। একসময় নিজেকে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্যালক হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি।


 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ১৪তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন আতাউল। প্রভাষক হিসেবে সে বছরই যোগ দেন মেহেরপুর সরকারি কলেজে। মাত্র ১১ মাস চাকরি শেষে বিএনপির শাসনামলে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে শিক্ষা পরিদর্শক হিসেবে পদায়ন নেন ডিআইএতে। তবে, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতার পালাবদলের পর ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ওএসডি হন। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ফের ডিআইএতে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে সেকেন্ডারি এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্টর প্রকল্প কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হন। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই ফের ফিরে আসেন ডিআইএতে। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত বছর ডিআইএতেই কর্মরত ছিলেন তিনি। তারপর থেকে বিভিন্ন সরকারি কলেজে কর্মরত আছেন। ২৯ বছর কর্মজীবনের ১৫ বছর ডিআইএতে কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।  

বর্তমান কর্মস্থল কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে পদায়ন পাওয়ার আগে প্রায় পাঁচ বছর তিনি ছিলেন রাজবাড়ীর পাংশা কলেজের অধ্যক্ষ। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই কলেজের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।   

দৈনিক আমাদের বার্তার অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাংশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত আইবুর রহমান নামে একজন শিক্ষককে অ্যাডহক নিয়োগ পাইয়ে দিয়েছিলেন আতাউল। আমেরিকায় থাকা সেই শিক্ষকের নামে বছরের পর বছর এমপিও টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। 

পাংশা সরকারি কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগ,  ২০১৯ খিষ্টাব্দের জুন ও জুলাই মাসে কলেজ ফান্ড থেকে ৮৩ লাখ টাকা পৌরকর পরিশোধ দেখানো হলেও প্রকৃতপক্ষে পৌরকর দেয়া হয় ৬০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা অধ্যক্ষ আতাউল আত্মসাৎ করেন। শিক্ষকদের আত্তীকরণের কাজের নামে তিনি ঘুষ নেন ৯ লাখ টাকা। বেতন করানো বাবদ বিভিন্ন সময়ে আরও নেন ২০ লাখ টাকা। 

শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে অকারণে তাদের শোকজ করেন অধ্যক্ষ আতাউল। নিজের আত্মীয়দের দাওয়াত করে কলেজের বিএনসিসি দিয়ে গার্ড অব অর্নার দেন। কলেজের অনুষ্ঠানে বাজেট প্রণয়নের নামে ভূয়া কমিটি গঠন করে হাতিয়ে নেন ৯ লাখ টাকা। অনলাইন ফিসের নামে পরিপত্র অনুযায়ী সরকারিভাবে একবার ২০ টাকা আদায় করা হলেও পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী প্রতি ২০০ টাকা করে আদায় করেন। অনার্স মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও জরিমানা বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) শাখায় প্রায়ই দেখা যায় আতাউলকে। 

অভিযোগ আছে, ক্যাম্পাসের এসিযুক্ত আধুনিক আসবাবপত্র সজ্জিত বাসায় বসবাস করেও বাড়ি ভাড়া উত্তোলন করেন আতাউল হক খান। পারিবারিক প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের দুটি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেন তিনি। বিভিন্ন কমিটির প্রধান হয়ে মোটা অংকের টাকা নেন। বাজেট কমিটি গঠন করে নেন দেড় লাখ টাকা। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি থেকে সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকা নেয়ার কথা থাকলেও ৭৫ হাজার টাকা তোলেন। এছাড়া কলেজের ফান্ডে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা  আত্মসাৎ করেন আতাউল। 
 
শিক্ষকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠান রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুর হাকিম। পাংশা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বলছেন, আতাউলের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ নানা দপ্তরে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

এসব বিষয়ে জানতে কল করা হলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা আতাউল হক খান চৌধুরী ফোন রিসিভ করেননি।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল   SUBSCRIBE  করতে ক্লিক করুন।

শেহজাদ আমার ও বুবলীর সন্তান : শাকিব খান - dainik shiksha শেহজাদ আমার ও বুবলীর সন্তান : শাকিব খান ৪০তম বিসিএস : নন-ক্যাডার নিয়োগে নতুন নিয়ম আসছে - dainik shiksha ৪০তম বিসিএস : নন-ক্যাডার নিয়োগে নতুন নিয়ম আসছে ফাঁস ঠেকাতে প্রশ্ন ব্যবস্থাপনা বদলাচ্ছে - dainik shiksha ফাঁস ঠেকাতে প্রশ্ন ব্যবস্থাপনা বদলাচ্ছে মাদরাসা শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha মাদরাসা শিক্ষকদের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওর চেক ছাড় অনুমোদন ছাড়া কর্মরত ষাটোর্ধ্ব প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ - dainik shiksha অনুমোদন ছাড়া কর্মরত ষাটোর্ধ্ব প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ সভাপতি হতে সন্তানকে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি - dainik shiksha সভাপতি হতে সন্তানকে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি একইদিনে এসএসসি ও এমএড পরীক্ষা : শিক্ষকরা বিপাকে - dainik shiksha একইদিনে এসএসসি ও এমএড পরীক্ষা : শিক্ষকরা বিপাকে স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের এমপিওর চেক ছাড় please click here to view dainikshiksha website