ইংরেজি কেন শিখব, কীভাবে শিখব ।। একাদশ পর্ব - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

ইংরেজি কেন শিখব, কীভাবে শিখব ।। একাদশ পর্ব

মাছুম বিল্লাহ |
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় নম্বর পেয়ে যাচ্ছে আর খুশি হচ্ছে। দু’ একটি উদাহরণ দিলে বুঝা যাবে তাদের ইংরেজির বাস্তব অবস্থাটা কী? আমি ঢাকার শিক্ষার্থীদের দেখেছি, তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্যাসেজ যেটি বার বার পরীক্ষায় আসে সেখান থেকে প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে এভাবে-
প্রশ্ন:  Why was the National Memorial built at Savar?

কেউ কেউ উত্তর লিখেছে, National memorial build savar freedom fighters sacrifice.

আবার কেউ কেউ লিখেছে, National memorial built for sacrifice.

ছোট হাত, বড় হাত, ক্রিয়ার ব্যবহার এগুলোর কোনো বালাই নেই। তারা বুঝতেই পারছে না কোথায় ভুল করছে। এটি হচ্ছে ঢাকার নামকরা দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অবস্থা। প্যাসেজটি তারা বার বার পড়েছে, প্যাসেজের উপর অনেক প্রশ্নোত্তর শিখেছে। নতুন একটি প্যাসেজ দিলে যে অবস্থা কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।
 
এবার ঢাকার অন্য একটি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর (মোটামুটি ভালো বলে পরিচিত) স্পিকিং স্কিল দেখার জন্য নিচের প্রশ্ন দুটো করেছিলাম। প্রথমটি সে বলছে, স্যার এটার অর্থ কী? দ্বিতীয়টি সে বার বার বলার চেষ্টা করেছে এবং এক পর্যায়ে বাংলায় বলেছে। ইংরেজিতে যতটুকু বলেছে তা হচ্ছে, I have only brother.
  1. How did you do in the first term examination?
  2. How many brothers and sisters do you have?
ঢাকার বাইরে সিলেটের একটি স্কুলে নবম শ্রেণির ক্লাসে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করেছি নিচের প্রশ্ন দুটি। ৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনও উত্তর দিতে পারেনি অর্থাৎ তারা বুঝেনি। যখন তাদের শিক্ষক বাংলায় বলে দিলেন যে আমি কী প্রশ্ন করেছি তখন একজন ছাত্র জবাব দিল, থারটি এইট। 
  1. How many students are there in your class?
  2. How do you like English?
ছাত্রছাত্রীরা একটি প্যাসেজ পড়তে পারে না, তবে দ্রুত উত্তর দিতে পারে। উত্তরগুলো সত্য-মিথ্যা। কিছু লিখতে দিলে তারা লিখতে চায় না। কমিউনিকেশন তারা মুখে করতে পারছে না, লিখে করতে পারছে না। বইয়ে দেয়া প্যাসেজ তারা বুঝতে পারছে এবং ট্রু-ফলস ও মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন তারা মোটামুটি পারছে। এর কারণ হচ্ছে এগুলো তারা বার বার পড়েছে এবং নোট বইয়ে বাংলা অর্থ ও প্রশ্নের উত্তর সবই দেওয়া আছে। তারা সেগুলোই প্র্যাকটিস করেছে। কতটুকু পারছে বুঝা যেত যদি অন্য কোনো সূত্র থেকে যদি একটি প্যাসেজ দেয়া হতো। প্যাসেজ গুলোর উত্তর বাজারের নোট ও গাইডে সব করে দেওয়া আছে, শিক্ষার্থীরা ওগুলো বার বার করছে, আর তাই মোটামুটি উতরে যাচ্ছে। একই প্যাসেজ তারা দিনের পর দিন করছে তাই পারছে।
 
গ্রামার ট্রান্সলেশন মেথডে মাঝারি ধরনের শিক্ষার্থীরা একেবারেই কোনো কমিউকেশন করত না, শুধু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং সে লেখা শুধু নোট থেকে নেয়া। কমিউনিকেটিভ ইংলিশে তাদের লেখার দক্ষতা একেবারেই বাড়ছে না। লেখার অংশটি এখনও গ্রামার ট্রান্সলেশন বা ট্র্যাডিশনাল মেথডেই রয়ে গেছে। তবে শিক্ষার্থীরা রাইটিং অংশ নিয়ে নাড়াচাড়া করে কিছুটা বুঝতে পারছে। এতটুকুই ফল হয়েছে। অন্য তিনটি স্কিলে তেমন কোনো পরিবর্তন এখনও আনা সম্ভব হয়নি।
 
কমিউনিকেটিভ ইংরেজির দুর্বল দিকগুলো কী কী?
(১) শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ইংরেজি শিখছে না। তারা একটি কিংবা দুটি বাক্যের উত্তর লেখা শিখছে, তাও নিজেরা করছে না। ফলে ভাষা ব্যবহারের ক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না।
(২) অলস হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। তারা বেশি পড়তে চাচ্ছে না। অল্প পড়েই যেহেতু ভালো পাসের ব্যবস্থা হচ্ছে, কেন তারা অতিরিক্ত পড়তে যাবে?
(৩) দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক যেহেতু নেই, পুরো কমিউনিকেটিভ পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে না কোথাও। শুধুমাত্র ঢাকা বা অন্য কোনো বড় শহরের দু’ একটি স্কুলে হচ্ছে। তাও সব টিচারের ক্লাসে হচ্ছে না।
 
ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে পূর্বে আলাদা প্যাসেজ দেয়া থাকতো, সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা কিছু ভাষা নিজের জন্য গ্রহণ করতে পারতো। গত কয়েক বছর যাবত গ্রামার চালু করায় শিক্ষার্থীদের পাশের সুবিধা হয়েছে, কিন্তু ভাষার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ এতে আরও সংকুচিত হয়েছে। বুঝে বা না-বুঝে আর্টিকেলের ঘরে ‘এ’ অথবা ‘দ্য’ বসিয়ে দিচ্ছে। কিছু হচ্ছে, কিছু হচ্ছে না। তাতে পাস করা কিংবা ভালো গ্রেড পাওয়া তেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। 
 
শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ইংরেজি বলছে না কেন?
(১) কালচারাল ব্যারিয়ারের কারণে ও লাজুক বলে। 
(২) ক্লাসে  ইংরেজি না বলেও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
(৩) ক্লাসের বাইরে তাকে ইংরেজি বলতে হচ্ছে না বা বলার সুযোগও নেই। অতএব ক্লাসে কেন বলবে?
(৪) ক্লাসে শিক্ষক ইংরেজি বলছেন না। শিক্ষক বললে শিক্ষার্থীরাও বলতে উৎসাহ বোধ করতো। কিন্তু গ্রামের কোনো স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক এখনও ইংরেজি বলছে না, ব্যতিক্রমী কেউ ছাড়া। ঢাকায় কোনো কোনো স্কুলে কিছু কিছু শিক্ষক ইংরেজি বলছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দ্বারা বলাচ্ছেন না এখনও।
 
লেখার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের কম্পোজিশন লিখতে হয়। এবার যেটি আসবে, আগামী বছর সেটি আর আসবে না। ছাত্রছাত্রীরা যে কোনো সূত্র থেকেই ঐ লেখা সংগ্রহ করে, মুখস্থ করে লিখতে পারে এবং করছেও তাই। নিজ থেকে লেখার কোনো চেষ্টা বা উৎসাহ কিংবা কোনো ধরনের ইনসেনটিভ নেই বলে ছাত্রছাত্রীরা কখনও নিজ থেকে লেখার কথা চিন্তাই করে না। অথচ কমিউনিকেটিভ ইংরেজি চালু করার মুখ্য উদ্দেশ্য গুলোর মধ্যে এটি ছিল একটি।
 
ঢাকায় কিছু কিছু ভালো স্কুল আছে। টিচাররা কম্পোজিশন ক্লাসে লিখে দেন পরীক্ষার কয়েকদিন আগে। ছাত্রছাত্রীদের ওগুলোও খাতায় লিখতে হয়। বাইরে থেকে লিখলে শিক্ষকরা নম্বর দেন না। এটি সাধারণত ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ঘটে। ব্যক্তিগত ও বাস্তবজীবনে ইংরেজি ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করার জন্যই কমিউনিকেটিভ ইংরেজির চালু করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন এখনও দেখা যাচ্ছে না। একটি গল্প পড়ে তার উত্তর দিতে হলে শিক্ষার্থীরা বিবৃতিমূলক বাক্যের ব্যবহার শিখতে পারে। প্রশ্ন যদি অতীতকালে করা হয়, উত্তর সেভাবে দিতে হবে। কিন্তু এই বিষয়গুলো তারা এখনও ঠিকমতো পারছে না। 
 
এখন যা করা দরকার:
দ্বিতীয় পত্রে আলাদা প্যাসেজ থাকা দরকার বিদেশি বই কিংবা সংবাদপত্রের আর্টিকেল থেকে। তাহলে শিক্ষার্থীদের ভোকাবিউলারি অনেকটাই বাড়বে, নতুন নতুন বাক্য গঠনের সাথে পরিচিতি লাভ করবে। কিছুটা মজাও পাবে, যেহেতু গল্প আকারে থাকবে প্যাসেজগুলো।
 
এক্সক্লুসিভ গ্রামার থাকা দেয়া উচিত ২০ নম্বর। বাকি ৮০ নম্বরে কম্প্রিহেনশন ও লেখার আইটেম থাকা দরকার। লেখার মাধ্যমেই গ্রামার শিখবে শিক্ষার্থীরা। তারা যত বেশি ল্যাংগুয়েজ পড়বে তাদের ভোকাবিউলারি তত বেশি  উন্নত হবে। আর ভোকাবিউলারি বাড়লে শিক্ষার্থীরা তাদের কমিউনিকেশনের দক্ষতাও বাড়াতে পারবে।
 
পুরো কমিউনিকেটিভ পদ্ধতিতে ইংরেজি পড়ানোর শিক্ষক নেই, স্কুলের অবস্থা সেরকম নেই, পরীক্ষার পদ্ধতিও  কমিউনিকেটিভ ল্যাংগুয়েজের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। অর্থাৎ মুখস্থ বিদ্যা এখনও চলছে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় পত্রে ইংরেজি কম্প্রিহেনশন থাকা দরকার। কম্প্রিহেনশনগুলো ভালো ভালো ইংরেজি গল্প থেকে নিতে হবে।
 
বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। পরিবর্তন আমাদের আনতেই হবে। সেটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ততই মঙ্গল। কমিউনিকেটিভ ল্যাংগুয়েজ টিচিংয়ের ভালো দিকগুলো ব্যবহার করার জন্য ইংরেজি শিক্ষকদের উৎসাহিত করা, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে গ্রামার ট্রান্সলেশন মেথডের ভালো দিকগুলোও সন্নিবেশ করে ইংরেজি পড়ানোর ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
চলবে......
 
লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত 
 

আরও পড়ুন:

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। দশম পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। নবম পর্ব

 ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। অষ্টম পর্ব

 ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। সপ্তম পর্ব

 ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। ষষ্ঠ পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। পঞ্চম পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। চতুর্থ পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। তৃতীয় পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। দ্বিতীয় পর্ব

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। প্রথম পর্ব

 
সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণ ও ডিজিটাল আইনে আরেক মামলা - dainik shiksha সাবেক ভিপি নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ-ধর্ষণ ও ডিজিটাল আইনে আরেক মামলা ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল - dainik shiksha ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের সেই বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করল এনটিআরসিএ - dainik shiksha শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের সেই বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করল এনটিআরসিএ মুজিব জন্মশতবর্ষের কেক নিয়ে উধাও হওয়া সেই অধ্যক্ষ বরখাস্ত - dainik shiksha মুজিব জন্মশতবর্ষের কেক নিয়ে উধাও হওয়া সেই অধ্যক্ষ বরখাস্ত জাল নিবন্ধন সনদে শিক্ষকতা, সরকারিকরণের পর ধরা - dainik shiksha জাল নিবন্ধন সনদে শিক্ষকতা, সরকারিকরণের পর ধরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের : মন্ত্রিপরিষদ সচিব - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের : মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উচ্চধাপে নির্ধারণ শিগগিরই : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উচ্চধাপে নির্ধারণ শিগগিরই : গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজের অনলাইন ক্লাস নিয়ে অধিদপ্তরের যেসব নির্দেশনা - dainik shiksha স্কুল-কলেজের অনলাইন ক্লাস নিয়ে অধিদপ্তরের যেসব নির্দেশনা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২৪১ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২৪১ শিক্ষক please click here to view dainikshiksha website