please click here to view dainikshiksha website

গুহার রূপক, শিশুদের প্রজ্ঞা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

ড. অরুণ কুমার গোস্বামী | আগস্ট ৭, ২০১৭ - ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে বিরাজিত পরিস্থিতি প্লেটোর ‘গুহার রূপক’ এবং টলস্টয়ের ‘শিশুদের প্রজ্ঞার’ কাহিনীর দিকে দৃষ্টি দিতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। বাস্তব জগতে জ্ঞানী লোক বিরল সেটি বোঝাতে প্লেটো তার রিপাবলিক গ্রন্থে গুহার রূপক বা এলেগোরি অব কেইভ কাহিনীটির অবতারণা করেছেন। অপরদিকে বিশ্বখ্যাত রুশ সাহিত্যিক কাউন্ট লিও টলস্টয়ের ছোট গল্প ‘শিশুদের প্রজ্ঞা’য় দেখিয়েছেন শিশুরা বড়দের চেয়ে অধিকতর জ্ঞানী হতে পারে।

তার বিখ্যাত দ্য রিপাবলিক গ্রন্থের সপ্তম অধ্যায়ে পাশ্চাত্য দর্শনের সবচেয়ে সুন্দর এবং বিখ্যাত ‘গুহার রূপক’ রূপকালঙ্কারটি উপস্থাপিত হয়েছে। মানুষের আত্মার ওপর শিক্ষার প্রভাব বোঝাতে এই রূপকালঙ্কারটি প্লেটো বিবৃত করেছেন। শিক্ষা কয়েকটি স্তর অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্যায়ে দার্শনিককে উত্তম আকারে নিয়ে আসে। এখানে সক্রেটিস তার শিষ্য গøকনের কাছে শিক্ষাহীন অন্ধকারময় দৃশ্য বর্ণনা করেন। একটি জনগোষ্ঠী জন্ম থেকেই গভীর গুহার মধ্যে বসবাস করে আসছে, কখনো তারা দিনের আলো দেখেনি। এই লোকগুলো এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা যে তারা তাদের আশপাশে বা পিছনে দেখতে পায় না, শুধু সোজা সামনেরটা দেখে। তাদের পিছনে আছে আগুন এবং আগুনের পিছনে একটি আংশিক দেয়াল।

দেয়ালের ওপরে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি, যা অন্য আর একটি জনগোষ্ঠী তৈরি করেছে, এগুলো আংশিক দেয়ালের দৃশ্যের বাইরে রাখা আছে। আগুনের কারণে বন্দিদের মুখোমুখি যে দেয়াল আছে সেখানে মূর্তিগুলোর ছায়া পড়ে। এই ছায়াগুলো যে কাহিনী তৈরি করে বন্দিরা তাই দেখে এবং এই ছায়াগুলোর মাধ্যমে তৈরি হওয়া কাহিনীগুলোকেই তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। তারা মনে করে এই ছায়াগুলোই পৃথিবীর সবচেয়ে আসল জিনিস। যখন তারা ‘মানুষ’, ‘নারী’, ‘বৃক্ষ’ এবং ‘ঘোড়া’ প্রভৃতি সম্বন্ধে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে তখন এই ছায়াগুলোর সূত্র উল্লেখ করে।

কল্পনার সর্বনিম্ন স্তরে এই বন্দিরা অবস্থান করে। যদি এখান থেকে কোনো বন্দিকে জোর করে মুক্ত করে দেয়া হয় তখন আগুনের দিকে এবং আসল মূর্তিগুলোর দিকে তাকাতে সে বাধ্য হয়। আগুনের আলোতে তার চোখ সরাসরি আসার কারণে কিছু সময়ের ব্যথা ও বিভ্রান্তির পর বন্দিটি বুঝতে পারে যে ছায়াকে সে এ যাবৎকাল আসল হিসেবে বুঝে এসেছে তারচেয়ে এখন সে যা দেখছে সেটিই অধিকতর আসল। সে বুঝতে পারে কীভাবে আগুন এবং মূর্তিগুলো একসঙ্গে ছায়া তৈরি করেছে, যেগুলো এসব অধিকতর আসল জিনিসের নকল। সে তখন মূর্তিগুলো এবং আগুনকে পৃথিবীর সবচেয়ে আসল জিনিস হিসেবে গ্রহণ করে। গুহার মধ্যকার এই স্তর বিশ্বাসকে প্রতিনিধিত্ব করে।

সে আসল সব জিনিস-মূর্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কিন্তু সে এ ব্যাপারে সতর্ক ছিল না যে এগুলোর চেয়েও বৃহত্তর বাস্তবতা- এই গুহার বাইরে একটি পৃথিবী আছে। পরে এই বন্দিকে গুহা থেকে বের করে উপরের পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে, আলোর কারণে তার চোখ এত ঝলসে যায় যে সেখানে প্রতিফলিত শুধু ছায়া সে দেখতে পায়, এরপরে চূড়ান্ত পর্যায়ে আসল জিনিস- আসল বৃক্ষ, ফুল, ঘরবাড়ি এবং এসব দেখতে পায়। এই পর্যায়ে সে চিন্তার বোধ স্তরে উপনীত হয়।

সবচেয়ে আসল জিনিসগুলোর ‘আকৃতি’ প্রথম ঝলকে তার কাছে ধরা দেয়। যখন বন্দির চোখগুলো পরিপূর্ণভাবে উজ্জ্বলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করতে সক্ষম হয় তখন সে স্বর্গীয় দৃশ্য দেখতে পায় এবং সূর্য প্রভৃতির দিকে নজর দেয়। সে বোঝে যে তার চারপাশে আলো, তার দেখার সামর্থ্য, ফুল, বৃক্ষ এবং অন্যান্য জিনিসের অস্তিত্ব, যা কিছু সে দেখছে সেসবের কারণ হচ্ছে সূর্য। সূর্য উত্তমকে প্রধিনিধিত্ব করে এবং এভাবে প্রাক্তন বন্দি অনুধাবনের স্তরে পৌঁছাতে পেরেছে।

শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেক মানুষকে যতদূর সম্ভব (অন্ধকারময়) গুহার বাইরে নিয়ে আসা। জ্ঞানকে আত্মার মধ্যে প্রবিষ্ট করানো শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়, বরং সঠিক ইচ্ছার প্রতি আত্মাকে পরিচালিত করা শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত। মন এবং দৃশ্যের মধ্যে মিল অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সক্রেটিস বলছেন যে একজন চতুর, দুষ্ট মানুষের দৃশ্যকল্প অবশ্যই একজন দার্শনিকের মতো তীক্ষণ হতে হবে। সমস্যা হচ্ছে সে তার তীক্ষè দৃশ্যকল্পবোধ কোন দিকে পরিচালিত করে। অর্থাৎ দার্শনিকতুল্য একজন চতুর মানুষের লক্ষ্য কি ভালো না মন্দ তার ওপরই ন্যায়বিচার নির্ভর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেশের যুবকদের চূড়ান্ত পর্যায়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করার ঠিক আগে আলোকিত মানুষ হিসেবে প্রস্তুত করার কাজে নিয়োজিত।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে কখনো কখনো তারা (শিক্ষকরা) জ্ঞানী হওয়ার দিক থেকে এমনকি জ্ঞান অর্জনের জগতে সদ্য প্রবেশকৃত শিক্ষার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে থাকার পরিচয় দিচ্ছেন! নিজেদের মধ্যকার দ্ব›দ্ব যত সহজে শিশুরা মিটিয়ে ফেলতে পারে বয়স্করা ততটা পারে না। সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গোষ্ঠী দ্ব›েদ্বর ঘটনা মীমাংসার পরিবর্তে (দ্ব›দ্ব) প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দ্বারা তাই প্রমাণিত হয়েছে। টলস্টয় ১৮৮৫ সালে লিখেছিলেন একটি ছোট গল্প। এর শিরোনাম ছিল ‘শিশুদের প্রজ্ঞা’ পরবর্তীকালে এটি ‘বয়স্কদের চেয়ে শিশুরা অধিকতর জ্ঞানী’ শিরোনামে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। টলস্টয়ের এই ছোট গল্প থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বা নীতিকথা বিশেষ বিশেষ কারণে কখনো কখনো সর্বজনীন হয়ে ওঠে। একটি রুশ গ্রামের প্রেক্ষাপটে আজ থেকে ১৩২ বছর আগে প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও এমনকি দেখা যাচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর নজির খুঁজে পাওয়া যায়। শুরুতেই টলস্টয় তার এই ছোট গল্পে যা লিখেছিলেন সংক্ষেপে তা উপস্থাপন করা সঙ্গত হবে।

বিশ্বখ্যাত রুশ সাহিত্যিক কাউন্ট লিও টলস্টয়ের ছোট গল্প ‘শিশুদের প্রজ্ঞা’ বা ‘উইজডম অব দ্য চিলড্রেন’ ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গল্পটি পরবর্তীকালে ‘বয়স্কদের চেয়ে শিশুরা অধিকতর জ্ঞানী’ বা ‘চিলড্রেন আর ওয়াইজার দ্যান দেয়ার এলডার্স’ শিরোনামেও প্রকাশিত হয়েছে। সংক্ষেপে কাহিনীটি এমন। রাশিয়ায় তখন ছিল বর্ষাকাল। গ্রামের রাস্তায় পানি জমেছিল। বৃষ্টি অল্প কিছুক্ষণ আগেই থেমেছে। দুটি শিশু রাস্তায় জমে থাকা পানিতে খেলা করছিল। এটি ছিল উৎসবের সময়। এই শিশুরা তাদের নতুন ফ্রক পরেছিল। মালাশা নামের শিশুটি অপর দুই জনের চেয়ে বয়সে ছোট ছিল।

এদের মধ্যে আকুলিয়া ছিল সবচেয়ে বড়। জমে থাকা পানির ওপর মালাশা জোরে পা দিয়ে স্ট্যাম্প করে। এটি ছিল কিছুটা কর্দমাক্ত। কাদাযুক্ত পানি ছিটে গিয়ে আকুলিয়ার নতুন ফ্রকটিকে কাদা মেখে দেয়। এ সময় আকুলিয়ার মা সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তার মেয়ের দিকে তাকালেন। তার মেয়েকে তিনি ধাক্কা দিয়ে জিজ্ঞেস করেন যে কীভাবে নতুন ফ্রকটিকে সে ময়লা করেছে।

‘কীভাবে তুমি তোমার নতুর ফ্রকটিকে ময়লা করলে?’ মায়ের এই প্রশ্নের জবাবে আকুলিয়া বলল, ‘মা, মালাশা আমার দিকে পানি ছিটিয়ে দিয়েছে।’ এ কথা শুনে আকুলিয়ার মা মালাশাকে ধরল। তিনি মালাশার পিঠে দু’তিনটি থাপ্পড় লাগিয়ে দেন। মালাশা উচ্চস্বরে কাঁদা শুরু করে। এ সময় মালাশার মা তার মেয়ের কান্না শুনতে পান। মালাশার কাছে এসে তার মা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কেন কাঁদছ?’ মালাশা উত্তর দেয়, ‘আকুলিয়ার মা আমাকে মেরেছে।’ মালাশার মা আকুলিয়ার মায়ের দিকে রাগান্বিতভাবে তাকালেন। অতি দ্রুত তারা পরস্পরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হলেন।

এ সময় অন্য মহিলারাও এই ঝগড়ায় শামিল হলো। কেউ মালাশার মাকে সমর্থন করছিল, আবার কেউ আকুলিয়ার মাকে সমর্থন করছিল। এ সময় আকুলিয়ার দাদিমা এগিয়ে এসে সবাইকে ঝগড়া থামানোর জন্য বললেন। তিনি বললেন, ‘এটি উৎসবের সময় তাই ঝগড়া করা উচিত না।’ কেউই তার কথায় কর্ণপাত করেনি। ইত্যবসরে মালাশা ও আকুলিয়া তাদের ঝগড়া ভুলে গিয়ে পুনরায় খেলা শুরু করেছে। তারা আবার পরস্পরের বন্ধু হয়ে উঠেছে। তারা ঝগড়ারত জটলা থেকে সরে আসে। জমে থাকা প্রবাহমান জলে তারা কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে মজা করতে থাকে। এবারে সেই বৃদ্ধ মহিলা ঝগড়ারত বয়স্কদের বলেন, ‘শিশুদের দেখ। তারা তাদের ঝগড়া ভুলে গিয়েছে। তারা আবার তাদের বন্ধু হয়ে উঠেছে। কিন্তু তোমরা বয়স্ক পুরুষ ও মহিলারা এখনো ঝগড়া করছ। তোমরা কি তোমদের এই প্রবণতার জন্য লজ্জিত নও?’ শিশুরা খুব সহজেই ভুলে যেতে এবং ক্ষমা করতে পারে। বয়স্করা শিশুদের কাছ থেকে এটি শিখতে পারে।

এবারে আসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি ঘটনায়। মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। বাংলাদেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠনের কমিটি গঠনের কাহিনী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশিরভাগ শিক্ষকই সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে আসা তরুণ। তবে কিছু সংখ্যক মফস্বলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন। তাদের মূল প্রয়োজন রাজধানীতে বসবাস করা। মফস্বলের এই সব বিপুল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকরা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণ শিক্ষকদের পরিচালিত করার জন্য সদা তৎপর। এই তৎপরতার অংশ হিসেবে তারা শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করার জন্য গড়ে ওঠা সরকার সমর্থিত সংগঠনের জন্য একটি ‘উন্নতমানের গঠনতন্ত্র’ তৈরি করে দিয়েছেন! শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গড়ে ওঠা সংগঠনের জন্য আবার নির্বাচনের ব্যবস্থা রেখে এই গঠনতন্ত্র! একাডেমিক কাজে বিঘ্ন ঘটিয়ে, নিজেদের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের নিমিত্তে, মফস্বলের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুটি গঠনতন্ত্র তারা তৈরি করেছেন। একটি শিক্ষক সমিতির লিখিত গঠনতন্ত্র।

আর একটি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার জন্য সরকার সমর্থিত সংগঠনের জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা রেখে তৈরি করা লিখিত গঠনতন্ত্র!! দুটি গঠনতন্ত্র সমান্তরালভাবে নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথমটি শিক্ষক সমিতির অর্থাৎ শিক্ষক সমতির নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে আর সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নির্বাচন হবে জুন মাসে। তার মানে প্রতি ছয় মাস পরপর দুটি নির্বাচন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি এসব সংশ্লিষ্ট কাজ। দল কিংবা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলে যেহেতু কিছুই হয় না সেহেতু মফস্বলের অভিজ্ঞতা অনুসারে সংগঠনের জন্য প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন ‘বাধ্যতামূলক’!! কারণ অভিজ্ঞরা বলেছেন এছাড়া চলা যাবে না!! এর বাইরে ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা করা, পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা, প্রজেক্ট, সেমিনার, কনফারেন্স প্রভৃতি করা এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক কিংবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেয়া, পরীক্ষা নেয়া প্রভৃতি করতেই এক একটি সেমিস্টার শেষ হয়ে যাবে।

প্রায় একই সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (যাদের টলস্টয়ের কাহিনী অনুযায়ী শিশু বা অন্তত শিক্ষকদের তুলনায় অধিকতর কম বয়সী হিসেবে গণ্য করা সমীচীন) এবং দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ কর্মী হিসেবে কর্তব্যরতদের ‘সাংবাদিক সমিতির’ নির্বাচনও আসন্ন। বলা বাহুল্য এখানেও সরকার ও বিরোধী দলের সমর্থক সাংবাদিক আছে। সাংবাদিক সমিতি নির্বাচনের জন্য একাধিক প্যানেল জমা পড়েছে, যেমনটি শিক্ষক সমিতির ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।

দুটি প্যানেলের (সংবাদ কর্মী) ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ‘বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি’ নির্বাচনে কয়টি প্যানেল পড়েছে সে সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য। এই সব তথ্যের মধ্যে একটি তথ্য খুবই কৌত‚হলোদ্দীপক। তা হলো ‘শিক্ষক সমিতি’ নির্বাচনের মতো ‘সাংবাদিক সমিতির’ নির্বাচনের জন্য যেসব প্যানেল জমা পড়েছে (সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের জন্য) সেই সব প্যানেল যারা যারা দিয়েছে তাদের ‘সংগঠনের’ জন্য আলাদা কোনো গঠনতন্ত্র নেই। কেন নেই? যেখানে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন (!) শিক্ষকরা অনেক কষ্ট করে তাদের সংগঠনের জন্য বা ‘গোষ্ঠী দ্ব›দ্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার’ লক্ষ্যে গড়ে ওঠা সংগঠনের জন্য ‘গঠনতন্ত্র’ তৈরি করেছেন। শিক্ষকদের এই প্রদর্শিত পথতো শিক্ষার্থীদেরও অনুসরণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। কেন শিক্ষার্থী সাংবাদিকরা তাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেনি? দৃশ্যত শিক্ষার্থী সাংবাদিকরা তাদের নিজেদের গোষ্ঠী দ্ব›দ্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়নি। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকরা গোষ্ঠীদ্ব›দ্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য ‘গঠনতন্ত্র’ তৈরি করলেও শিক্ষার্থী সাংবাদিকরা সে পথে না গিয়ে প্রকৃত জ্ঞানীর পরিচয় দিয়েছে। এভাবে দেখা যাচ্ছে অন্ততপক্ষে এই ক্ষেত্রে, কাউন্ট লিও টলস্টয়ের চেতনা অনুসারে বলা যায়, ‘শিক্ষার্থীরা কখনো কখনো তাদের শিক্ষকদের চেয়ে অধিকতর জ্ঞানীর’ পরিচয় দিতে পারে।

প্রফেসর : ড. অরুণ কুমার গোস্বামী, চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন