please click here to view dainikshiksha website

চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে রক্ত ঢেলে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৩, ২০১৬ - ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ খোলার প্রথম দিনই আজ অধ্যক্ষের কক্ষের সামনের মেঝেতে রক্ত দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

কর্মসূচি চলাকালে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রক্ত অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে ঢেলে দেওয়া হয়।

গত ১৬ ডিসেম্বর কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর কলেজের চারটি ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম নগর শাখা সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রাবাসগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ, নাশকতা ও অস্ত্র আইনে করা মামলার আসামি শিবির ক্যাডারদের গ্রেপ্তার এবং অভিযোগপত্রভুক্ত শিবির ক্যাডারদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ আট দফা দাবি পেশ করে। এসব দাবি না মেনে ২ জানুয়ারি কোনোভাবে কলেজ খোলা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ছাত্রলীগ।

এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আজ কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এতে অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হয়নি। কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাও হয়নি।

অবস্থান কর্মসূচি: ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ছাত্রলীগ। এই সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ছাত্রলীগের নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ছাত্রলীগ আট দফা দাবি দিয়েছিল। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজ না খোলার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো গণ্য না করে আজকে কলেজ খুলে দিয়েছেন। এতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরকে মুখোমুখি করে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ দিকে সমাবেশ শেষে দুপুর সাড়ে ১২টায় নুরুল আজিমের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী কলেজ অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তারের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা আট দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কলেজ অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানান।

তবে এসব দাবি বাস্তবায়নে সময়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে নেতাদের জানান কলেজ অধ্যক্ষ। সেখান থেকে বের হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের প্রবেশপথে রক্ত ঢেলে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।

ছাত্রলীগের নেতা নুরুল আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা আট দফা দাবি দিয়েছিলাম। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে কলেজ খুলে দিয়েছে। এখন কলেজে যেহেতু নিরাপত্তা নেই, তাই রক্ত ঢেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়েছি। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

এ দিকে শিক্ষকদের অনুরোধে দুপুর আড়াইটার দিকে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে ঢেলে দেওয়া রক্ত কাপড় দিয়ে মুছে দেয়।

স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম: ছাত্রলীগের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আজ দুপুরে কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বাংলা বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ ও ইতিহাস বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, এসব বিভাগের শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা। শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি।

অর্থনীতি বিভাগের দুজন শিক্ষক জানান, সকালে স্নাতক শ্রেণির প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের দুটি ক্লাস হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থী না আসায় ক্লাস হয়নি। একই কথা জানান বাংলা, ইংরেজি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকেরাও।

কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও কলেজ অধ্যক্ষ জেসমিন আক্তার বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের নির্বাচনী পরীক্ষা শনিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। আর ছুটির পর প্রথম দিন হওয়ায় কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও​সি) আজিজ আহমেদ বলেন, কলেজের নিরাপত্তার জন্য ৫৫ জন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর কলেজের মূলফটক ছাড়া বাকি চারটি প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন