please click here to view dainikshiksha website

নোয়াখালীর তিন উপজেলায় জলাবদ্ধতা, এখনো ডুবে আছে সড়ক

পাঠদান বন্ধ ৩০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

নোয়াখালী প্রতিনিধি | আগস্ট ১২, ২০১৭ - ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

এক সপ্তাহ বিরতির পর নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নোয়াখালীর ৩টি উপজেলায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে। উপজেলাগুলো হলো বেগমগঞ্জ, সোনামুড়ী ও সেনবাগ। ৩টি উপজেলার ২২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা জলমগ্ন হয়ে আছে। এর মধ্যে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় সোনাইমুড়ী উপজেলার ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। উপস্থিতি কমে গেছে অন্য বিদ্যালয়গুলোতেও।

টানা জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক এখনো পানির নিচে। অনেক কাঁচা সড়ক ভেঙে গেছে। বাড়ির আঙিনা, চলাচলের পথ সবই প্রায় ২০ দিন ধরে ডুবে আছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন উপজেলাগুলোর বাসিন্দারা। ঘর থেকে বের হলেই পানি। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার ঠিকমতো রান্নাও করতে পারছে না।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের উত্তর রছুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বারান্দা ছুঁই ছুঁই করছে পানি। চারপাশের রাস্তায় হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন লোকজন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও হাতেগোনা। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বাঁশের প্রায় ৩০০ গজের সাঁকো।

সহকারী শিক্ষক হনুফা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড়, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আসছে নৌকায় চড়ে। সামনে সমাপনী পরীক্ষা হওয়ায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়নি।

সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁদের প্রায় ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জলমগ্ন। এর মধ্যে ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতর পানি ঢোকায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

সোনাইমুড়ীর অম্বনগর ইউনিয়নের শান্তিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরে মওলা চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের ৪টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ২টিতে পানি ঢুকে পড়েছে। মাঠও পানিতে থই থই। ফলে পাঠদান বন্ধ।

সেনবাগ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, সেনবাগে প্রায় ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও চলাচলের পথ পানিতে ডুবে আছে। বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১০০টি বিদ্যালয়ে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানান সেখানকার শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদুল হক মোল্লা। তবে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও পাঠদান বন্ধ রাখা হয়নি।

এদিকে গত দুই দিনে সরেজমিনে সোনাইমুড়ীর বজরা, নাটেশ্বর ও বারগাঁও, বেগমগঞ্জের রসুলপুর, কাদিরপুর ও একলাশপুর এবং সেনবাগের কাদরা, কেশারপাড়, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা ঘুরে দেখা যায়, এলাকাগুলোর বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়কই জলমগ্ন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলাচলের রাস্তা, খেলার মাঠ সবখানেই পানি জমে আছে।

সোনাইমুড়ীর ওয়াছেকপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, প্রতিবছরই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার জলাবদ্ধতা বেশি। গ্রামের অনেক সড়কই পানির নিচে।

অনেক বাড়িতে পানি উঠেছে। চলাচলের প্রধান মাধ্যম এখন নৌকা। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে হাটবাজারে যাওয়া এ কেনাকাটা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

সেনবাগ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, তাঁর ওয়ার্ডের ৬০ শতাংশ বাড়ি এখনো জলমগ্ন। পানিনিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন নালা ও খাল পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মূল খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

বেগমগঞ্জ উপজেলার মধ্যম একলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের বলেন, অতীতে আরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু কখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি। ঘর থেকে বের হলেই পানি। ঘরের চারপাশে পানি থাকায় ভেতরেও স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। রান্না ঘরের চুলাও জ্বালাতে কষ্ট হয়।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা খানম বলেন, জলাবদ্ধতার কিছুটা উন্নতি হলেও নিচু এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা এখনো জলমগ্ন রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিনিষ্কাশনের বাধা অনেকটা দূর করা হয়েছে। সেনবাগ উপজেলার ইউএনও শারমিন আলমও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছেন বলে জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম  বলেন, নোয়াখালী খালসহ উপখাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সমস্যা ভোগাচ্ছে। ইতিমধ্যে খাল খনন করার একটি প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন