please click here to view dainikshiksha website

প্রধান শিক্ষককে পেটালেন সহকারি শিক্ষক

মেহেরপুর প্রতিনিধি | আগস্ট ৩, ২০১৭ - ৫:৪৭ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) কে পেটালেন কম্পিউটারের সহকারি শিক্ষক আইউব আলী। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) মেহেরপুর সদর উপজেলার হাতিভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ও জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২রা আগস্ট) কম্পিউটার শিক্ষক বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছিলেন। তার হাজিরা খাতায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত দেখান। এদিকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আল মামুন ও অফিস সহকারী আশিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ফরম পুরনের টাকা ব্যাংকে জমাদেন। এতে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আইউব আলী ক্ষিপ্ত হন। তিনি বিদালয়ে এসে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর করে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও আফিস সহকারী আশিকুর রহমানকে মারধর করে। এ সময় শিক্ষদের উত্তেজনা দেখে কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করলে অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয় ছুটির ঘোষণা দেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, গত তিনদিন প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। গতকাল শিক্ষা অফিসার এসে কম্পিউটার শিক্ষককে বিদ্যালয়ে না পেয়ে তার হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত দেখাতে বললে আমি তাকে অনুপস্থিত দেখাই। আজ বিদ্যালয়ে এসে রফিকুল ইসলাম হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত লেখা দেখে ক্ষিপ্ত হন। আমার কাছে কারণ জানতে চান। এছাড়াও তার অনুমতি ছাড়া ফরম পুরনের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে কেন জানতে চেয়ে বকাবকি করতে থাকেন। এক পর্যায় তিনি আমাকে বিদ্যালয়ের চেয়ার তুলে পেটাতে থাকেন।

সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) আইউব আলী বলেন, ১৩ বছর চাকরি করছি বেতন পাইনা। বিদালয়ের সার্বিক প্রশানিক কাজ হেড মাস্টারকে নিয়ে আমি করে থাকি। বাকি যারা আছে তারা সবাই নিকট আত্মীয়। আমি যে কোন কাজ করলে তারা হিংসায় জ্বলে। আমি ১৫ দিনের জন্য নির্বাচনের ভোটার হালনাগাদ কাজে আছি। এ জন্য গতকাল বিদ্যালয়ে যাইনি। তারা আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়েছে। আবার হেড মাস্টার ফরম ফিলাপের দায়িত্ব দিয়েছে আমাকে। কিন্তু এরা আমাকে বাদ দিয়ে ফরম ফিলাপ করেছে। এ ফরম  ফিলাপের ভুল হলে দায় দায়িত্ব কে নেবে। এ কারণে আমার রাগ হয়েছে তাই আমি চেয়ার তুলে টেবিলে মারলে চেয়ারটি ভেঙ্গে যায়। তাছাড়া আমি কাউকে মারিনি।

প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ দিনের ছুটিতে বাইরে আছি। তবে রফিকুল ইসলামকে পিটানোর ঘটনাটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জেনেছি। শনিবারে বিদ্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে বসা হবে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা আফিসার হোসনে মোবারক বলেন, শিক্ষক আইউব আলী শিক্ষককে পিটিয়ে অন্যায় করেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১৬টি

  1. মতিউর রহমান মতিন। হাজি ইব্রাহিম আলমচান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। says:

    ঘোড়া ডিঙাইয়া ঘাস খাওয়া। উল্টো।

  2. রায়হান,সহশি,সরল আমিরিয়া উ/বি,বাঁশখালী,চট্টগ্রাম। says:

    ict শিক্ষকের আচরণ দু:খজনক।এমনটা করা মোটেও ভাল হয়নি। তবে ১৩ বছর সরকারী সুবিধা না পাওয়া স্যারটির সামান্য সুবিদা নিয়ে বাড়াবাড়ি করে অন্য শিক্ষকগন আইয়ুব স্যারকে এমন আচরনে উসকানি দিয়েছেন বলে মনে করি।

  3. কামরুল হাসান says:

    ict শিক্ষককে দোষ দিলে হবে না । সমস্যা একটা আছে । ভারপ্রাপ্ত প্রধান ৩দিনের দায়িত্ব পেয়ে ফাটাকেষ্ট হয়ে এতগুলো কাজ করতে গেলেন কেনো ?

  4. Salim Mahmud says:

    Assistance Headmaster (Acting) should wait for the Computer teacher upto submit money to the Board. Becsuse it is very important work to fill up the form . If anybody mistakes it, the authority wii be responsible for it.

  5. কামরুজ্জামান says:

    ict শিক্ষকের ১৩ বছর সরকারী সুবিধা না পাওয়া দু:খজনক ict স্যার এর ভুল নয়।

  6. মোঃ কামাল হোসেন says:

    এরকম শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের কলংক,এদের ছাটাই করাই ভাল।

  7. moniruzzaman;bezpara hayatunnesa dakhil madrasah.koyra; khulna says:

    Very sad.

  8. মো: আব্দুল মালেক, পাংশা, রাজবাড়ী। says:

    বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আইসিটি শিক্ষকদের অমানবিক পরিশ্রম করানো ঠিক নয়। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে দেশের প্রায় সব বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর কাজ বর্তমানে আইসিটি শিক্ষকদের দিয়ে করানো হচ্ছে এটা দু:খজনক।

  9. হুমায়ুন কবির says:

    এক হাতে এই পৃথিবীতে কেউ কী কোনোদিন তালি বাজাতে পেরেছিল? বরাবরই দেখা যায়- একজনের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেয়া হয়! আর ওই তোয়ালে দেয়া আসনে যেই রাজাধিরাজ অধিষ্ঠিত থাকেন তার বেলা?

  10. সিফাত উল্লাহ says:

    বাজে কোন মন্তব্য না করাই ভাল, প্রথমে বিষয়টি ভালভাবে জানতে হবে তার পরে এর প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করলে ভাল হয়।

  11. জসিম উদ্দিন says:

    ICT শিক্ষকের এ আচরন কোন মতেই মেনে নেয়া যায়না ,

  12. Md.Abdul Wahab says:

    অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ict শিক্ষকগন সাধারনত সব বিষয়ে পারদর্শী হয়ে থাকে, তাই তাদের উপরে শ্রেণী পরিচালনাসহ অনেক দায়িত্ব এসে যায়। আর যারা দায়িত্ব পালন করে তাদের একটু সেন্টিমেন্ট বেশী থাকে। কিন্তু ফাকিবাজগুলো সেগুলো মানতে পারে না। আর অপ্রীতিকর ঘটনা এ কারনেই ঘটে। তবুও বলছি সীমা লঙ্ঘন করা কারো উচিত নয়। একাটা প্রতিষ্ঠান সুন্দরভাবে চালাতে হলে অবশ্যই সু্ন্দর “টিম ওর্য়াক” দরকার।

  13. Ashraf. says:

    তদন্ত কমিটি করে উপযুক্ত বিচার হয়া একান্ত প্রয়োজন, না হয় প্রশাসনিক কাজ করা যাবেনা,

  14. মোঃ আবদুল মন্নান says:

    ict স্যার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে জড়িত থাকায় তাকে উল্লিখিত দিনে ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক অনুপস্থিত না দেখালেও পারতেন। এ ছাড়া ১৩ বছর সরকারী সুবিধা না পাওয়াও অত্যন্ত দু:খজনক। তবে চেয়ার তুলে মারাটা তার মোটেও ঠিক হয় নি।

  15. Mohammed Sahab Uddin "Firoz", Senior Teacher (Computer), Kamalpur M.H. High School & Master Trainer (Computer), UITRCE, Banbeis, Chatkhil, Noakhal.i. says:

    বিষয়টি দুঃখজনক। আইসিটি শিক্ষকদের দিয়ে প্রধানশিক্ষকগণ অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর এর কাজ করান, এটা অমানবিক এবং আইসিটি তথা কম্পিউটার শিক্ষককে অবমুল্যায়ন ও অপমান করা ছাড়া আর কিছু নয় এবং এটা প্রমান করে প্রধানশিক্ষকদের আইসিটি জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব আছে। এটা প্রধানশিক্ষকদের এক ধরনের ব্যার্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়, কারণ- যে কাজগুলো আগে অফিস সহকারীরা হাতে করতো সেই কাজগুলো এখন কম্পিউটার এ করা হয় কিন্তু কাজগুলো তো অফিস সহকারীর- এটা প্রধানশিক্ষক সাহেবদের বুঝা উচিত। প্রধানশিক্ষক সাহেবরা অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটদের কম্পিউটারে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে না বিধায় আইসিটি শিক্ষক তথা কম্পিউটার শিক্ষকরা সীমাহীন লাঞ্ছনার মধ্যে আছে। আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি আপনারা আইসিটি তথা কম্পিউটার শিক্ষকদের দ্বারা প্রধানশিক্ষক সাহেবদের নির্দেশে অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর এর কাজ না করার প্রজ্ঞাপন জারী করে আইসিটি তথা কম্পিউটার শিক্ষকদের পদ মর্যাদা ও আত্ম-সম্মান রক্ষা করবেন।

  16. ‌রিক্ত, ছিট মহলবাসী says:

    বেয়াদবকে জুতা পিটা কর। হেডমাষ্টারের চামচা তাই সহকারী শিক্ষকদের সাথে বেয়াদবী করে। এম পি ও পেলে সে এম পি হয়ে যাবে ।

আপনার মন্তব্য দিন