please click here to view dainikshiksha website

মহাপরিচালককে গালাগালি করে ফাঁসছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ - ৭:৫০ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দেয়ার অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। শিক্ষা ক্যাডারের ১৮শ ব্যাচের ওই কর্মকর্তার নাম মো: শফিকুল ইসলাম। শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদটি শিক্ষা ক্যাডারের এক নম্বর পদ।

বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যার সহকারি অধ্যাপক। প্রতিযোগিতামূলক বি সি এস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তিনি সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরিজীবনে প্রবেশ করেছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হয়েও তিনি প্রতি উপজেলায় একটি করে কলেজ জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের বিরোধিতা করে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গালাগাল দিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় কেন শাস্তি হবে না তার জবাব আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে শফিকুল ইসলামকে লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ই ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো: মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ খবর জানা গেছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয়করণের বিরোধিতা করে সরকার ও শিক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, টকশো, সংবাদপত্রে নিবন্ধ লেখা, ফেসবুকে মন্তব্য লেখার দায়ে আরো অন্তত কয়েক ডজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অধিদপ্তরের দেয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে শফিকুল ইসলামের ফেসবুকে করা মন্তব্যটি সরাসরি তুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, শিক্ষা ক্যাডারের ওই কর্মকর্তা খুবই অকথ্য ভাষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে গালাগালি করেছেন যা পত্রিকায় প্রকাশ করা থেকে দৈনিকশিক্ষাডটকম বিরত থাকলো।

চিঠিতে বলা হয়, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্পর্কে এ ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত, অশোভনীয়, শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শফিকুল ইসলামের বক্তব্য সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর ধারা ৩০ এর এ বি সি ও ডি পরিপন্থী এবং শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা ১৯৮৫ এর ধারা ৩(বি) এর আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে শফিকুল ইসলামকে।

এর আগেও বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা ও ফেসবুকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ আনায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ফাহানা বিলকিসকেও জবাব দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়। পরে তাকে ফরিদপুরের সরকারি ইয়াসিন কলেজে বদলি করা হয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হয়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী তাকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে তার অভিযোগের বিষয়ে যাবতীয় প্রমাণপত্র ও বক্তব্য দিতে বলা হয়। এ নিয়ে দৈনিক শিক্ষাডটকমে গত ২৩শে জানুয়ারি ‘জাতীয়করণ বিরোধী কর্মকাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২৩শে জানুয়ারি জারি করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি ফারহানা বিলকিস তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে একাধিক মন্তব্য করেন। একটি হলো ‘আমলাতন্ত্র নিপাত যাক, শিক্ষা ক্যাডার মুক্তি পাক, আমার মন্ত্রণালয় আমি চালাব, আমার দেশ আমি গড়ব’ এবং আরেকটি মন্তব্য ছিল, ‘শত শত কোটি টাকার বাণিজ্যে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের বিসিএস ক্যাডার বানিয়ে শিক্ষার বারোটা বাজানো কর্মকর্তা এবং বর্তমানের নতুন করে ১৮ হাজার জনকে পরীক্ষা ছাড়া বিসিএস ক্যাডার বানানোর জন্য ৩০০ কোটি টাকা যেসব রাঘব বোয়াল পকেটে ভরেছেন, তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক।’

২০১৭ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা অক্টোবর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি’ ব্যানারে জাতীয়করণের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ফারহানা বিলকিস সে কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। ‘নো বিসিএস নো ক্যাডার’ দাবিতে সে সময় সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১৫টি

  1. মোঃ মিজানুর রহমান পাহাড়, সহ: শিক্ষক ICT. শরীয়তপুর। says:

    বিচার হোক

  2. শ্যামল বিশ্বাস,ফকিরহাট ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ says:

    কলেজ জাতীয়করণ বিষয়ে বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডারের বেশ কিছু কর্মকর্তা নানাবিধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে এযাবৎ যে নজিরবিহীন ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছেন তা সরকার গৃহীত পদক্ষেপের প্রচ্ছন্ন বিরোধিতার শামিল। এর ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা অপুরণীয়।যেমন-
    ১)বহু শিক্ষক বঞ্চিত হয়ে সরকারকে ভুল বুঝে চোখের জলে বিদায় নিয়েছে।
    ২)জিও জারি বিলম্বিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা হতাস হয়েছে।
    ৩)সরকারের এই বিশালায়তন কর্মযজ্ঞের সুফল গ্র‍্হণে তারা বাঁধ সেধেছে।
    ৪)কর্ম বিরতির নামে শিক্ষায় ২ দিনের হরতাল ডেকেছে।ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষান্নোয়ন পরিকল্পনা।
    ৫)প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে সরকার বিরোধী কাজ করে আপাত সফল হয়ে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে।
    ৬) এসকল কলেজের শিক্ষকদের যোগ্যতার প্রশ্নে আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেছে।যা কাক হয়ে কাকের মাংস খাওয়ার সামিল।
    এতদসত্বেও আমরা তাদের সম্মান করি।পরিশেষে একটি প্রশ্ন -যে দেশের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ভ্যানে চড়তে দ্বিধা করেন না,শিক্ষককে নিজের সম্মানে প্রদত্ত লাল গালিচা ছেড়েদেন সেই দেশের শিক্ষাক্যাডারদের “মর্যাদা” রক্ষার জন্য লড়াই কতটুকু বাঞ্ছনীয়?

  3. Masud Mostafa Masud says:

    প্র মাহবুবুর রহমানের মতো একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি কে যারা অসন্মানের অপচেষ্টা করে, তাঁদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। এ সব কুচক্রী মহল দেশ ও জাতির শত্রু। এদের কে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি বিধান করা অতীব জরুরী।

  4. রিফাত চৌধুরী, ইসলামপুর, জামালপুর। says:

    ইনাদের আচরণ দেখে মনে হয়ে পারলে সরকারকেও গালি দেবেন।।
    সরকারি চাকুরী করে যেটা আদোও সহনীয় নয়।

  5. মোঃ আব্দুল আহাদ ( প্রশান শিক্ষক ) পাটুয়াভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ,পাকুন্দিয়া ,কিশোরগঞ্জ । says:

    তদের কছুই হবেন । কারণ তারা সরকারে পোষ্য গোলাম ।

  6. জাকির, says:

    জিও চাই আর কোনো কথা নাই

  7. এম,এ,মামুন says:

    যারা সরকারের বিরুদ্ধে অান্দোলন করে জাতীয়করণে তালিকাভুক্ত ২৮৩ কলেজ জাতীয়করণ বন্ধ করে সরকারের প্রশংসনীয় কাজকে ভূলুণ্ঠিত করেছে তাদের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ নয়? স্কুল কলেজ জাতীয়করণ পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। সরকার শেষ সময়ে এসে ষড়যন্ত্রকারীদের কি শাস্তি দিতে পারবে?

  8. md.Rafiqul Bahar Lec.kuliarchar college says:

    ক্যাডারের আচরন ভাল হওয়া কাম্য

  9. Md.Mowazzem Hossain Birampur college.Dinajpur. says:

    BCS পাস করে নিজকে মহাগানননীা ভাবছে তারা ।যে দেশের ৯৭%শিক্ষা দেয় বেসরকারি শিক্ষক তারা কি মুরখ। কাকে বলে ডাশা মুরখ।

  10. Md.Ali Azgar says:

    আপনার মন্তব্য we want G.O

  11. ইমদাদুল হক says:

    তাঁরা ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন।

  12. আজিজ রহমান says:

    জাতীয়করন, জিও জারি এখন তিতা লেবু মতো লাগে।

  13. শফিউদ্দিন says:

    কলেজ জাতীয়করণ হোক কিন্তু শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী নয়। তাঁদের চাকরি এমপিও এর অধীন থাকবে। এতে শিক্ষার মান বজায় থাকবে।

আপনার মন্তব্য দিন