জ্ঞান পার্টির কৌশল: অজ্ঞান শিক্ষার্থী ও অভিভাবক - মতামত - Dainikshiksha

জ্ঞান পার্টির কৌশল: অজ্ঞান শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

মোস্তাফিজুর রহমান শামীম |

উকিপিডিয়ার তথ্যমতে, শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয়া হয় এবং সমাজের একজন উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের জন্য যে সকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো অর্জনে সহায়তা করা হয়। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞানলাভের প্রক্রিয়াকেই শিক্ষা বলে। তবে শিক্ষা হল সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের অব্যাহত অনুশীলন। বাংলা শিক্ষা শব্দটি এসেছে ‍’শাস’ ধাতু থেকে। যার অর্থ শাসন করা বা উপদেশ দান করা। শিক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ education এসেছে ল্যাটিন শব্দ educare বা educatum থেকে। যার অর্থ to lead out অর্থাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা বা বিকশিত করা।

সক্রেটিসের ভাষায় ‘শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ। এরিস্টটলের মতে ”সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা’’। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে’।

এ থেকে স্পষ্ট শিক্ষা কোন সাধারণ বিষয় নয়। আর একটি আসাধারণ বিষয়কে সাধারন, সাবলীল ভাবে যিনি তুলে ধরেন তিনি শিক্ষক। শিক্ষা যখন শিক্ষকের দ্বারা বাণিজ্যিকীকরণ হয়ে যায়, তখন এরিস্টটল ও রবীন্দ্রনাথের এই উক্তিও শিক্ষার স্বরূপ বিশ্লেষনে ব্যর্থ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু, মানুষরূপি অমানুষ শিক্ষাকে পণ্য বানানোর উদ্দেশ্যে উঠেপড়ে লেগেছে। এসব অমানুষদের চেনা কঠিন, কারণ তারা দেখতে মানুষের মতোই।

সমাজে অনেক ধরণের প্রতারক চক্র আছে। কেউ খাবারে কিছু মিশিয়ে কাউকে সর্বস্বান্ত করে। এদেরকে বলা হয় অজ্ঞান পার্টি। আবার কেউ অন্যের চোখে মলম দিয়ে সব কিছু কেড়ে নেয়। এদের বলা হয় মলম পার্টি। কিন্তু যারা জ্ঞান ও শিক্ষা দেয়ার নামে প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তাদের কি জ্ঞান পার্টি বললে ভুল হবে? এই জ্ঞান পার্টির জনবল প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষা ধ্বংসকারী অসাধু কিছু শিক্ষক। শুধু তাই নয়, এই প্রতারক চক্রকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে তারা গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। এলাকাভেদে এই সিন্ডিকেটের সদস্য  পাঁচ-ছয়জন, যারা পাঁচ-ছয়টি বিষয়ের শিক্ষক।

একজন কোমলমতি শিক্ষার্থী যদি এই চক্রের একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার জন্য যায়, তাহলে তাকে যে কোনভাবে মগজ ধোলাই করে সিন্ডিকেটের বাকি শিক্ষকদের কাছে পড়তে বাধ্য করা হয়। এই মগজ ধোলাইয়ের শিকার শুধু শিক্ষার্থীই হয় না। অভিভাবকদের সাথেও একই প্রক্রিয়ায় প্রতারণা করা হয়। বিজ্ঞানের শিক্ষকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেট করেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে। কারণ এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

বিজ্ঞান শিক্ষক সিন্ডিকেট চক্রের বড় হাতিয়ার ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর। ব্যবহারিক পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার আশায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব প্রতারক চক্রের ফাঁদে পা দেয়। এভাবেই অভিভাবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে এই চক্র। স্বাভাবিক অর্থে, একজন শিক্ষক যদি তার বেতনের টাকায় পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে না পারেন, তখন তিনি প্রাইভেট পড়ান এবং শ্রেনিকক্ষে শিক্ষকের কাছ থেকে বোঝার অপূর্ণতা থাকলে শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়ে। কিন্তু এই চিত্র আজ ভিন্ন।

যে সমস্ত শিক্ষকগণ এই রকম সিন্ডিকেটের সদস্য, তারা হয়তো বা আমার লেখা পড়ে জ্বলে-পুড়ে যাচ্ছেন। বিবেকের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন আমার কথাগুলো অযৌক্তিক কিনা। আপনাদের কাছে যদি অযৌক্তিক মনে হয় তবে তা যুক্তিখণ্ডনসহ জানানোর অনুরোধ রইল।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে থেকেই শুরু হয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেট পড়া। প্রতিযোগিতার যুগ বলে কথা! সমাজের কিছু অসাধু শিক্ষকদের প্রতারণার কালো হাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার কেউ নেই। এদের হাত অনেক লম্বা। সারাদেশ আজ প্রাইভেট কোচিং রোগে আক্রান্ত। যারা এসব সিন্ডিকেট, প্রাইভেট বাণিজ্য প্রতিরোধ করবেন, তাদের সন্তানরাও যে প্রাইভেট শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে! সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার। ২০১২ খ্রিস্টাব্দেও চেষ্টা করেছিলেন। কোন লাভ হয়নি। বরং প্রাইভেট পড়ার বেতন বেড়ে গিয়ে তিনগুণ হয়েছে। অভিভাবকদের প্রতিমাসে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত অনেক টাকা। ২০১২ তে একবার অভিভাবকরা জিম্মি হয়েছে এই সমস্ত প্রাইভেট শিক্ষকদের কাছে। এবার আরও একবার জিম্মি হওয়ার অপেক্ষায়। তাই নির্বোধের মতো প্রতিকার চাইবো না, অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় আছে কি?

মোস্তাফিজুর রহমান শামীম: প্রভাষক, ইংরেজি, ভেড়ামারা কলেজ, কুষ্টিয়া।

[মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

সদ্য সরকারিকৃত ২৭১ কলেজ শিক্ষকরা যা জানতে চান - dainik shiksha সদ্য সরকারিকৃত ২৭১ কলেজ শিক্ষকরা যা জানতে চান ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha ব্যবসায় ব্যবস্থাপনার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ ৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন - dainik shiksha ৩৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন ঢাবিতে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল - dainik shiksha ঢাবিতে ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ৫ সেপ্টেম্বর (ভিডিও) - dainik shiksha ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন ৫ সেপ্টেম্বর (ভিডিও) মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধের নির্দেশ - dainik shiksha মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধের নির্দেশ টিটিসির সেই ৯২ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট - dainik shiksha টিটিসির সেই ৯২ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট কওমি সনদের স্বীকৃতিতে আইনের খসড়া অনুমোদন - dainik shiksha কওমি সনদের স্বীকৃতিতে আইনের খসড়া অনুমোদন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা আর থাকছে না - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা আর থাকছে না উপসচিব হতে চান সরকারি কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষক - dainik shiksha উপসচিব হতে চান সরকারি কলেজের দুই শতাধিক শিক্ষক জেএসসি পরীক্ষার সূচি - dainik shiksha জেএসসি পরীক্ষার সূচি জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু ১ নভেম্বর - dainik shiksha জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুরু ১ নভেম্বর জেডিসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha জেডিসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ অবসর সুবিধার আবেদন শুধুই অনলাইনে, দালাল ধরবেন না(ভিডিও) - dainik shiksha অবসর সুবিধার আবেদন শুধুই অনলাইনে, দালাল ধরবেন না(ভিডিও) দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website