please click here to view dainikshiksha website

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

লক্কড়ঝক্কড় ভাড়া গাড়িতে ঝক্কি

ইবি প্রতিনিধি | আগস্ট ৮, ২০১৭ - ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

পূর্ণাঙ্গ আবাসিক সুবিধা না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনেক দূর থেকে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গাড়ি না থাকায় বিপুলসংখ্যক লোকজনকে ভাড়া গাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। এ সুযোগে স্থানীয় মালিক সমিতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিবহনব্যবস্থা জিম্মি হয়ে পড়েছে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হচ্ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি। লক্কড়ঝক্কড় মার্কা এসব গাড়িতে চলাচলে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ।

কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহর থেকে যথাক্রমে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার দূরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন যুগেও সিকিভাগ আবাসিক সুবিধাও নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক, ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও ৮৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাধ্য হয়ে দুই জেলা শহরে অবস্থান করেন। তাঁরা ক্যাম্পাসে যাওয়া-আসা করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনে। তবে এ বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পরিবহন সার্ভিস দেওয়ার মতো নিজস্ব গাড়ি নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মালিক সমিতির দ্বারস্থ হয়। গত বছরের মে মাসে দুই বছরের জন্য চুক্তি হয় ঝিনাইদহের সময় এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে।

আগামী বছর ৩১ মে এ চুক্তি শেষ হবে। সময় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ পৌর মেয়র সাইদুল কমির মিন্টু। তাঁর দেওয়া গাড়ির অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহন করার জন্য বাস আছে ৪৭টি। এর মধ্যে নিজস্ব মাত্র ১৬টি। সেখানেও সচল আছে মাত্র ১১টি। বাকি বাসগুলো চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করে সময় এন্টারপ্রাইজ। দুটি দোতলা বিআরটিসি বাস লিজ নেওয়া আছে পাবনা ডিপো থেকে। ভাড়ায়চালিত ৩১টি বাসের মধ্য ১৫টি কুষ্টিয়া সড়কে, ১১টি ঝিনাইদহ ও পাঁচটি শৈলকুপা সড়কে চলাচল করে। অভিযোগ আছে, মালিক সমিতি তার ক্ষমতাবলে ঝিনাইদহ সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি থাকলেও বিআরটিসির গাড়ি ঝিনাইদহ সড়কে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছে পরিবহন অফিস। এ ছাড়া অভিযোগ আছে, ভাড়ায়চালিত অধিকাংশ গাড়িই ফিটনেসবিহীন। প্রতিদিন এ লক্কড়ঝক্কড় গাড়িতে ২৪ ও ২২ কিলোমিটার যাতায়াত করে শিক্ষার্থীরা।

এ সম্পর্কে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুস সালাম বলেন, ‘ভাড়ার গাড়িতে উঠলে নিজেদের জীবন নিয়ে ঝুঁকিতে থাকি। ক্যাম্পাসে আসার জন্য এর বিকল্প নেই বলেই আমরা বাধ্য হচ্ছি। আর গাড়িগুলোতে বসার কোনো অবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। ’

অনেক সময় রাস্তায় চলা অবস্থায় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। যাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। মাঝেমধ্যে বাস থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের বাস ঠেলতে হয়। ড্রাইভার-হেলপারদের অধিকাংশই অদক্ষ। বেশির ভাগ সময়ই হেলপার দিয়ে গাড়ি চালাতে দেখা যায়। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে পরিবহন শাখায় খরচ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুধু ভাড়ায়চালিত গাড়ির জন্য খরচ হয়েছে চার কোটি ১০ লাখ টাকা। পাশাপাশি নিজস্ব গাড়ির জন্যও খরচ হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাড়ায়চালিত গাড়ির পরিবর্তে বিআরটিসি থেকে গাড়ি লিজ আনলে খরচের পরিমাণ কমবে বলে মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরিবহন শাখার এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি পরিবহনকে স্থানীয়দের হাত থেকে মুক্ত করতে। তাহলে একদিকে আমাদের অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত সেবা ভোগ করতে পারবে। ’

পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিকায়ন ও আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন শাখাকেও আধুনিকায়ন করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করলে এটা সম্ভব। বিআরটিসি থেকে গাড়ি লিজ নিলে খরচ কমবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খরচ না কমলেও ভালো মানের সেবা পাব। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘পরিবহনে আমরা আত্মনির্ভরশীল হতে চাই। সেই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উন্নততর পরিবহন সেবা দিতে চাই। ’

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন