please click here to view dainikshiksha website

শিবির সাজিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশে দেয়ার অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি | আগস্ট ৪, ২০১৭ - ৩:১২ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পূর্ব বিরোধের জেরে শিবিরি সাজিয়ে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশে দেয়ার আগে আব্দুল হালিম নামের ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে ১৬ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মো. ইলিয়াস হোসেন সবুজ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে আব্দুল হালিমের বাবা মো. আব্দুল কাদের এ অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, কুবি ছাত্রলীগের ইলিয়াস গ্রুপ না করায় তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।

আব্দুল হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের ছাত্র। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের কোটেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৩০০৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আব্দুল হালিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আলিফ-রেজার অনুসারী। ওই সময় ইলিয়াস গ্রুপের একটি গোপন বৈঠকের অডিও রেকর্ড করে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি আলিফকে গোপনে অবহিত করেন আব্দুল হালিম। পরে ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস সে বিষয়টি জানতে পারেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই আলিফ-রেজা গ্রুপের কর্মীদের ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করেন বতর্মান সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। অনেককে মারধর করে বের করে দেন।

এদিকে আগের বৈঠকের তথ্য প্রকাশের বিষয়টির জের ধরে ২০ জুলাই রাত ১১টায় আব্দুল হালিমের হাতে শিবিরের বই, সিডি ও চাঁদা আদায়ের রসিদ ধরিয়ে দিয়ে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে তার নিজ কক্ষে বেদম প্রহার করে ইলিয়াস গ্রুপের কর্মীরা। এরপর তাকে সারা রাত আটকে রেখে পরদিন দুপুরে প্রভোস্টকে চাপ দিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৬ ঘণ্টা পর তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।

এরপর, বিশ্ববিদালয়ের প্রভোস্ট ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২১ জুলাই দুপুর সোয়া ১টায় ইলিয়াস মোবাইল ফোনে তাকে লিখিতভাবে জানান, আব্দুল হালিমকে শিবিরের সিডি, নোটবুক ও চাঁদা আদায়ের রসিদসহ আটক করা হয়েছে। এ সময় ছাত্ররা তাকে মারধর করে।

বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করতে ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি ওই চিঠিতে পুলিশকে অনুরোধ জানান।

এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত প্রশাসন বাদি হয়ে মামলা করলেও হালিমের বিরুদ্ধে বাদি হয়েছেন ইলিয়াস হোসেন সবুজ নিজে। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২০ জুলাই রাত ১১টার সময় আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়। অথচ পুলিশে খবর দেওয়া হয় পরদিন দুপুরে। পুলিশের ডায়রিতে মামলা দায়েরের সময় ২১ জুলাই বিকেল সাড়ে চারটা উল্লেখ করা হয়।

এই রহস্যময় ঘটনা এবং দীর্ঘ সাড়ে ১৬ ঘণ্টা হালিমকে আটকে রাখার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আব্দুল হালিমের বাবা ঘটনাটি সাজানো দাবি করে, মামলা থেকে তার ছেলেকে মুক্তি দিতে প্রশাসনসহ সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান রাফি রাজু বলেন, আব্দুল হালিম এলাকায়ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একই কথা জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুলও।

কুমিল্লা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. এরশাদ জানান, আব্দুল হালিম তার সঙ্গে ছাত্রলীগের মিটিং-মিছিলে নিয়মিত যোগ দিয়েছেন। তার ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই এলাহী বলেন, হালিম কখনো শিবির করেনি। তাকে শিবির বানিয়ে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে । সে ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী।

এ বিষয়ে পাঁচথুবী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান রাফি রাজু বলেন, আ. হালিম এলাকায়ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলো। পাঁচথুবী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহলুলও আ. হালিমকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানান।

এ বিষয়ে কুবি ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, হালিম শিবির কর্মী। ছাত্রলীগের ক্ষতি করার জন্য সে শিবির থেকে ছাত্রলীগে প্রবেশ করেছে। এ বিষয়টি জানার পর আমরা তাকে পুলিশে দিয়েছি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খবর পেয়ে আব্দুল হালিমের বিছানার উপর শিবিরের সিডি, নোটবুক ও চাঁদা আদায়ের রসিদগুলো পেয়েছি। ছেলেটি আসলে শিবির কর্মী কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১টি

  1. মোঃ নজরুল ইসলাম says:

    আহ! কি চমৎকার । আমাদের এলাকার নেতারা শিবিরকে ছাত্রলীগ বানিয়ে লেজ লম্বা করে, আর আপনারা দেখছি ছাত্রলীগ কে শিবির বানিয়ে লেজ ছোট করছেন রে ভাই ! এর সমাধান কে দেবে ভাই ।যারা আওয়ামীলীগের জন্যে জীবন কোরবানী করতে পারবেন তাদের জন্যে চাকরীর সুপারিশ করবে না তৃন মুল নেতারা ,যারা বলির পাঠা হয়ে কামাই করে দিতে পারবেন ,আওয়ামীলীগের ভাবমুর্তি নষ্ট করবেন তাদের জন্যে এই শ্রেণীর নেতারা শব করতে পারবেন ।

আপনার মন্তব্য দিন