অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন

অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী |

ঠিক কখন থেকে অক্সফোর্ড, ক্যাম্ব্রিজ কিংবা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনে আসছি-সে কথা আজ মনে নেই। খুব সম্ভব প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় এদের নাম জেনেছি। ছোটবেলা থেকে  মনের মধ্যে বিশ্বের নানা দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে  জানার প্রবল ইচ্ছে তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের সম্পর্কে জানার কৌতুহল আরো বেড়েছে।

কেবল নিজের কথা বলি কেন, লেখাপড়া জানা যে কোন মানুষের কাছে এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জানার আগ্রহ স্বাভাবিক একটি বিষয়। বিশেষ করে ইদানিং কালে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি অতিশয় আগ্রহী হয়ে উঠায় এদের প্রতি সঙ্গত কারণে  জানার আগ্রহ বেড়েছে। কেন জানি দেশ কিংবা বিদেশের যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই জানার কৌতুহল। এখানে ইংল্যান্ডে আসার পর থেকে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার চেষ্ঠা করেছি। কাছে থেকে অক্সফোর্ড ও ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে জানার ও দেখার যে সুযোগ পেয়েছি, সেটি কিছুতেই হাতছাড়া করা যায় না।

এখানে আসার পরদিনই ছেলেকে বলে রেখেছি, যে করে হউক ইংল্যান্ডের বিশ্বসেরা দুই বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড ও ক্যাম্ব্রিজ স্বচক্ষে দেখে যেতে হবে। তা না হলে ইংল্যান্ড সফরটা নিস্ফল হবে। গত ১৯ আগস্ট, বৃহস্পতিবার তুহিনের সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। সে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করে। আগেরদিন ট্যাক্সি ঠিক করে বাসায় এসেই পরদিন অক্সফোর্ড বেড়াতে যাবার বিষয়টি অবহিত করে। মনের ভেতর অন্য এক আনন্দ খেলে যায়। পরদিন সকালে সেভাবে প্রস্তুত হয়ে ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।  দশটার আগে ট্যাক্সি বাসার সামনে এসে হাজির। দেরি না করে ট্যাক্সিতে চড়ে অক্সফোর্ডের দিকে যাত্রা করি। বার্মিংহাম থেকে অক্সফোর্ড যেতে সোয়া এক ঘন্টার ওপরে সময় লেগেছে। মোবাইলে গুগল ম্যাপের সাহায্যে আমরা একেবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র ওয়েস্টন লাইব্রেরির কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছে যাই। সেখানে ট্যাক্সি পার্কিং করে নেমে পড়ি বিশ্বের অন্যতম নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড ঘুরে দেখতে। প্রথমেই লাইব্রেরিতে ঢুকতে চেয়েছিলাম। ততক্ষণে দুই শিফটে সেদিন লাইব্রেরি সব টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে যায়। লাইব্রেরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়।

বহিরাগতদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টিকেট ক্রয় করে লাইব্ররিতে প্রবেশ করতে হয়। বিজ্ঞান যাদুঘর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান দর্শনীয় কলেজ ও হলসমুহ ঘুরে দেখি। সত্যি সে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অন্য রকম আলাদা অনুভুতি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পা রেখে সৃষ্টিকর্তাকে বার বার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি। এর ক্যাম্পাস, কলেজ, লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, গবেষণাগার-সবকিছু সত্যি অসাধারণ। বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার এক অনন্য বিদ্যাপীঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়। কোন রকম কোলাহল, হৈ চৈ কিংবা অপসংস্কৃতির লেশমাত্র নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মত দেয়াল লিখন কিংবা পোস্টারিং কোথাও চোখে পড়েনি। কথিত ছাত্র রাজনীতির নামগন্ধ নেই। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার উর্বর ও অদ্ভুত এক চারণভুমি। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অগণিত জ্ঞান পিপাসু লোকজন অক্সফোর্ডে বেড়াতে আসেন। নতুন দর্শনার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজ, হল, লাইব্রেরি, গবেষণাগার, বিজ্ঞান যাদুঘর, থিয়েটার ইত্যাদি ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য গাইড রয়েছে। এরা বেশিরভাগ অক্সফোর্ডেরই শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে দেখাতে তারা দর্শনার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা কার্যক্রম ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা দেয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরতে এসে বিভিন্ন উৎস থেকে এর সম্বন্ধে যেটুকু জেনেছি, তা পাঠকদের কৌতুহল নিবৃত করার জন্য তুলে ধরছি। 

অক্সফোর্ড কেবল বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একটি শহরেরও নাম বটে। লন্ডন শহর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এই শহরটি অবস্থিত। এই অক্সফোর্ড শহরেই বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি বলে সর্বজন স্বীকৃত। পৃথিবীতে খুব কম মানুষ আছে, যারা ইংল্যান্ডের এই নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম শুনে নাই বা জানেনা। অক্সফোর্ড কেবল নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ। ইংরেজি ভাষাভাষিদের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। জানা যায়, ইতালির বুলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। আর অক্সফোর্ড হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি কখন স্থাপিত হয়, তা স্পষ্ট নয়। খুব সম্ভব ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দ সনে এটি প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর কোন নিজস্ব ভবন ছিল না। ভাড়া করা হল কিংবা চার্চে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হত। রাজার এক আদেশ বলে ১৩৩৫ সনে এটিকে অক্সফোর্ড শহরে স্থানান্তর করা হয়। গড়ে তোলা হয় নিজস্ব ভবন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা কারণে বিশ্বখ্যাত ক্যাম্ব্রিজ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় সবার পছন্দের তালিকায় নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ইংল্যান্ডে অবস্থিত। হার্ভার্ড আমেরিকায়। শুরু থেকে সবদিক বিবেচনায় আজ অবধি অক্সফোর্ড বিশ্বের সবচেয়ে নামিদামী হাতে গোনা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মানের দিক থেকে বরাবর এটি বিশ্বের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থানে অবস্থান করে থাকে। বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। এখন পর্যন্ত  ৪৫ জনের বেশি নোবেল বিজয়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়েছেন। শুধু কী তাই ? এ পর্যন্ত ৪ জন ইংরেজ রাজা, ৮ জন বিদেশি রাজা, ২৫ জন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রি, ২৮ জন বিদেশি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রি, ৭ জন সেইন্ট বা সাধু, ১৮ জন কার্ডিনাল ও ১ জন পোপ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে  পড়াশুনা করেছেন। শত শত রথী ও মহারথীর পদচারণায় বরাবর মুখরিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জুলফিকার আলী ভুট্টো, বিল ক্লিনটন, অংসান সুচি সহ ৩০ জনের ওপরে আন্তর্জাতিক নেতা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে বেরিয়েছেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রামে ল্যাটিন ভাষায় যে নীতিবাক্য লেখা আছে তা হলো- Duminus Illuminatio Mea (ডোমিনাস ইলুমিনাটিও মিয়া)। এর বাংলা হচ্ছে-ঈশ্বরই আমার আলো/ প্রভু আমার নুর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আচার্য দ্য রাইট মাননীয় লর্ড প্যাটেন অফ বার্নস এবং উপাচার্য লুইস রিচার্ডসন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩৯টি কলেজ এবং ৭টি Permanent Private Halls ( PHS)-এর সমন্বয়ে গঠিত। এদিক বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি কলেজিয়েট বিশ্ববিদ্যালয় বলা যায়। এটি তার আওতাধীন কলেজ এবং হলগুলোর একটি ফেডারেশনের মত। সবগুলো কলেজ নিয়েই এই বিশ্ববিদ্যালয়, যা কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিটি কলেজ ও হল স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এদের কোন না কোনটির সাথে সংযুক্ত থাকতে হয়। আবাসিক সুবিধা ছাড়াও কলেজগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে পরীক্ষা, গবেষণাগার এবং কেন্দ্রিয় লাইব্রেরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করে থাকে। প্রতিটি কলেজে সাধারণত একটি ডাইনিং হল, প্রার্থনা কেন্দ্র, লাইব্রেরি, ৩টি কমনরুম এবং ২০০-৪০০ জন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা আছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫ হাজারের মত শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী মিলে ৭ হাজারের ওপরে। ২ হাজারের কাছাকাছি টিচিং স্ট্যাফ। বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশের ৮-১০ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর এখানে অধ্যয়ন করতে আসে। 

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথমদিকে ধর্মতত্ত্ব, আইন, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও দর্শন পড়ানো হতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এর কলেবর বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। প্রথম মহিলা কলেজ লেডি মার্গারেট হল ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যাপক সংস্কার সাধন করা হয়। তখন থেকে বিজ্ঞানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ চালু করা হয়। জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি জ্ঞান সৃষ্টি করার মধ্যে অনন্য হয়ে উঠে এই বিশ্ববিদ্যালয়। এর আদর্শ অনুসরণ করে পৃথিবীর নানা দেশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়। এদের মধ্যে অক্সফোর্ড নামটি মধ্য আকাশে সূর্যের ন্যায় সর্বোচ্চ তেজে দীপ্ত রয়েছে। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে মানুষ এক নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে চেনে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, পাঠদান ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোলস পরিহার করে এখানে গবেষণা কর্মের উপর বেশি জোর দেয়া হয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবকাশ যাপনের জন্য মোট ৭০ একর পার্ক আছে। এছাড়া অসংখ্য ছোট বড় খেলার মাঠ, বোটানিক্যাল পার্ক ও জেনেটিক পার্ক রয়েছে। এখানে অনেকগুলো যাদুঘর আছে। এসব যাদুঘরের মধ্যে অ্যাশমোলিয়ান যাদুঘর সবচেয়ে প্রাচীন। পার্ক এবং যাদুঘরগুলো দিনের বেলায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে আসেন। উচ্চ শিক্ষার পীঠস্থান এবং মনীষীদের আঁতুড়ঘর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নিঃসন্দেহে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা বিস্তার ও গবেষণার বিচারে এটিকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় বললেও খুব একটা অত্যুক্তি হবে না। এই বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবার পর পৃথিবীতে যুগে যুগে যত মনীষীর জন্ম হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে নিজেদের মহিমান্বিত করেছেন। জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার এমন একটি আবহ পৃথিবীর কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ? জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে অক্সফোর্ড যুগে যুগে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছে। সম্প্রতি করোনা মহামারি নির্মূলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের আবিস্কৃত করোনার টিকা পৃথিবীতে মানব জাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে আস্থা ও বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। এভাবে মানব কল্যান ও মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় অসাধারণ ভুমিকা পালন করে আসছে।

অক্সফোর্ডে সেদিন পুরোটা সময় কিভাবে কেটেছে একদম বুঝতে পারিনি। ট্যাক্সি ড্রাইভার তাগিদ না দিলে অক্সফোর্ডে কখন যে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যেত, তা টের পেতাম না। অতৃপ্ত হৃদয় নিয়ে বার্মিংহামের দিকে ফেরত যাত্রা শুরু করি। ফেরার সময় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জিনিস লক্ষ্য করেছি। ক্যাম্পাসের কোন কোন অংশ বিশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতই মনে হয়েছে। খুব সম্ভব অক্সফোর্ডের কোন কোন ভবন ও দেয়ালের আদলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'একটি হল, ভবন ও দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। আর এ কারণে অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে  প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে অভিহিত করে থাকেন। জ্ঞান বিজ্ঞান ও গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ডের আদলে পরিচালিত হলে সেটি যথার্থ ও সার্থক হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানে আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয় হাজারের ভেতরে আসতে না পারলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে কী লাভ, সেটি আমার বোধগম্য হয়নি। আজ এ পর্যন্তই। সময় পেলে আরেকদিন অক্সফোর্ডে বেড়াতে যাব। আসছে সপ্তাহে ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে যাবার ইচ্ছে আছে। স্বপ্নের এ দু'টি বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যেতে পারলে ইংল্যান্ড সফর সফল ও সার্থক হয়। ক্যাম্ব্রিজ সফর করে অন্য আরেকদিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। সে প্রত্যাশায় আজকের লেখাটি এখানেই শেষ করতে চাইছি।

লেখক : অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, অধ্যক্ষ, চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, কানাইঘাট, সিলেট এবং দৈনিক শিক্ষার নিজস্ব সংবাদ বিশ্লেষক, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সফররত।

শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদযাপন করা হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদযাপন করা হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওপর ফের চড়াও রাজশাহী বোর্ড কর্মচারীরা - dainik shiksha শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওপর ফের চড়াও রাজশাহী বোর্ড কর্মচারীরা ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর - dainik shiksha ঢাবির হল খুলছে ৫ অক্টোবর এসএসসি পরীক্ষা শুরু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে - dainik shiksha এসএসসি পরীক্ষা শুরু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না এ বক্তব্য হাস্যকর : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha আন্দোলনের ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না এ বক্তব্য হাস্যকর : শিক্ষামন্ত্রী ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী উপসচিবের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা - dainik shiksha উপসচিবের বিরুদ্ধে শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা অবৈধ সম্পদ অর্জন : সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা - dainik shiksha অবৈধ সম্পদ অর্জন : সাবেক শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা please click here to view dainikshiksha website