নিয়োগ বাণিজ্যে মাদরাসা সুপার - মাদরাসা - দৈনিকশিক্ষা

বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগনিয়োগ বাণিজ্যে মাদরাসা সুপার

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি |

রৌমারী উপজেলার নুরপুর রহমানিয়া দারুচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. রিয়াজুল হকের বিরুদ্ধে দুটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন ওই মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা রিয়াজুল হক মাদরাসায় যোগ দেয়ার পর থেকেই নানা দুর্নীতি আর অনিয়ম করে আসছেন। তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের। শুধু তাই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে সুপার দুর্ব্যবহার করেন।

ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মু. আব্দুর রাজ্জাকের সময় রাতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে দুটি পদের জন্য গেল ১ জুন দৈনিক ইনকিলাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিন আবেদন করার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাদরাসার জনৈক শিক্ষকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নুর নাহারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আর কাঠালবাড়ির জনৈক ইউনুস আলীর ছেলে হানিফ নামে অপর প্রার্থীর কাছ থেকে ৫ লাখ ঘুষ নেন।

তবে হঠাৎ করেই গেল ১৫ জুন সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হলে কয়েকদিনের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পৃথকভাবে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়ে সাইফুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক সদস্যকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে সভাপতি নিযুক্ত করা হয়।

পরবর্তিতে সাইফুল ইসলাম ও সুপারের যোগসাজসে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্যদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই রেজুলেশনের সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করেন। প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে কৌশলে রেজুলেশনও করেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সভাপতি ও সুপার মিলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিজ বাসভবন গাইবান্ধায় যান। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ঢাকায় মাদরাসা বোর্ডে যান।

এদিকে, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি গোপন রাখায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। অন্যদিকে, সুপারের বিরুদ্ধে মাদরাসার পুকুরের বালু, লিচু বাগান নিলাম, মাদরাসার জমির ধান ও কয়েকটি গাছ বিক্রির প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাত করারও অভিযোগ তুলেছেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।

তাছাড়া মাদরাসায় গোপন নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও দায়ের করেছেন। মাদরাসার অভিভাবক সদস্য আফতারুল বলেন, আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি করছি।

মাদরাসার সুপারকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে উল্লেখ করে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ফজলুল হক বলেন, তিনি মাদরাসার অর্থের কোনো হিসাব দেন না। মোটা অংকের অর্থ নিয়ে অবৈধভাবে দুটি পদে নিয়োগ দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুপার মাওলানা রিয়াজুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা।

রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম নকিবুল হাসান কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপাতত ক্লাস সপ্তাহে ১ দিন : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha আপাতত ক্লাস সপ্তাহে ১ দিন : শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসির ফল প্রকাশে আইন পাস, দু’দিনেই প্রজ্ঞাপন - dainik shiksha পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসির ফল প্রকাশে আইন পাস, দু’দিনেই প্রজ্ঞাপন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে একাট্টা হচ্ছে সব সরকারি কর্মচারী সংগঠন - dainik shiksha ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে একাট্টা হচ্ছে সব সরকারি কর্মচারী সংগঠন নো মাস্ক নো স্কুল, ক্লাস হবে শিফটে : দুশ্চিন্তায় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - dainik shiksha নো মাস্ক নো স্কুল, ক্লাস হবে শিফটে : দুশ্চিন্তায় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান : স্মরণসভায় জেলা জজ - dainik shiksha সাংবাদিকতার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মিজানুর রহমান : স্মরণসভায় জেলা জজ প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে, দাবি প্রতিমন্ত্রীর - dainik shiksha প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে, দাবি প্রতিমন্ত্রীর মাদরাসা শিক্ষার সমস্যার সমাধান দ্রুতই : শিক্ষা উপমন্ত্রী - dainik shiksha মাদরাসা শিক্ষার সমস্যার সমাধান দ্রুতই : শিক্ষা উপমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার গাইড লাইন প্রকাশ, তিন ফুট দূরত্বে ক্লাসরুমের বেঞ্চ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার গাইড লাইন প্রকাশ, তিন ফুট দূরত্বে ক্লাসরুমের বেঞ্চ ক্লাসরুমে সর্বোচ্চ ১৫ শিক্ষার্থী, প্রতি বেঞ্চে ১ জন - dainik shiksha ক্লাসরুমে সর্বোচ্চ ১৫ শিক্ষার্থী, প্রতি বেঞ্চে ১ জন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে please click here to view dainikshiksha website