বেসরকারি কলেজে শিক্ষা ক্যাডার নিয়োগ বন্ধ না হলে আন্দোলন - সমিতি সংবাদ - দৈনিকশিক্ষা

বেসরকারি কলেজে শিক্ষা ক্যাডার নিয়োগ বন্ধ না হলে আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক |

স্বনামধন্য বেসরকারি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে প্রেষণে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস)। একইসঙ্গে ইতোমধ্যে প্রেষণে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। আর এসব দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের এ সংগঠনটি। 

একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসবভাতা দেয়া, বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি কর্মচারীদের মত বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা দেয়া, এমপিও নীতিমালা থেকে প্রেষণে অধ্যক্ষ-উপধ্যক্ষ নিয়োগের ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভায় এসব দাবি জানানো হয়। রোববার দৈনিক শিক্ষাডটকমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান তারা। 

সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা, প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেছেন, প্রতিবার ঈদের আগে সিকি ভাগ উৎসব ভাতার পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দেয়ার নামে শিক্ষামন্ত্রী নানা ধরনের কথা বলায় শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। যা অপ্রত্যাশিত। এবারের ঈদের আগে সরকারি শিক্ষকদের মত পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা দিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

অধ্যক্ষ আসাদুল হক বেসরকারি কলেজে সরকারি শিক্ষকদের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে প্রেষণে নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রত্যাহার দাবি করেনে। তিনি বলেন, বেসরকারি কলেজে প্রেষণে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষদের প্রত্যাহার করা না হলে এবং নিয়োগ বন্ধ না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যে কোন মূল্যে এই নিয়োগ ঠেকানো হবে। তিনি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে জারি হওয়া স্কুল-কলেজের এমপিও নীতিমালার সরকারি শিক্ষকদের প্রেষণে নিয়োগের ধারা বাতিল করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, তিলে তিলে  একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন বেসরকারি শিক্ষকরা কিন্তু হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসে শিক্ষা ক্যাডার। কোথাও লুটপাট কোথাও গালাগালির চর্চা শুরু করে দেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। আর নানাভাবে হয়রানি ও অপমান করা হয় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত এমপিও-ননএমপিও শিক্ষকদের। এসব বন্ধ হওয়া জরুরি।

সভায় বেসরকারি শিক্ষকদের পক্ষে ১২ দফা দাবি জানান বাকশিস নেতারা। তাদের দাবিগুলো হলো, প্রাথমিক পরবর্তী সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষা সরকারিকরণের লক্ষে বেসরকারি শিক্ষকদের সরকারি শিক্ষকদের অনুরূপ বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, পূর্ণাঙ্গ পেনশন দেয়া, অন্তবর্তীকালীন মহার্ঘভাতা দেয়া, ননএমপিও ও অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের জন্য এমপিওভুক্ত, উচ্চমাধ্যমিক কলেজে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদের পরিবর্তে সহকারী অধ্যাপক পদ বহাল রাখা, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের সংকট নিরসনে অভিজ্ঞ প্রভাষকদের আবেদন করার সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। এছাড়া শিক্ষকদের বদলি চালু করা, ২০২১ খ্রিষ্টাব নীতিমালা সংশোধন, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের প্রেষণে নিয়োগসহ ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন। 

এসব দাবি দাওয়া নিয়ে শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার সঙ্গে আলোচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতারা। তারা বলেন, ফলপ্রসূ আলোচনা না হলে শিক্ষকদের অধিকার ও দাবি প্রতিষ্ঠায় ১২ দফা আদায়ের জন্য ঈদের পর আগামী জুলাই মাস থেকে ধারাবাহিক ঐক্যবদ্ধ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে আগামী অক্টোবরের মধ্যে সারাদেশে বাকশিস জেলা ও মহানগর শাখার সম্মেলন সমাপ্ত করে আন্দোলন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সভায়।

সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, অধ্যক্ষ মোহসীনুল ইসলাম হাবুল, অধ্যক্ষ মনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ফয়েজ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। সভা সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক জাকির হোসাইন।

সভায় অন্যান্যেরে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আজহার আলী, অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন, অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সৌরভ, অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ শেখ জুলহাস উদ্দিন, অধ্যক্ষ হায়দার আলী, অধ্যাপক মুরশিদ শাকুরী, অধ্যাপক শেখ আমিনুর রহমান, অধ্যাপক ইয়াসমিন আরা খানম, অধ্যাপক সাদিয়া সুলতানা, অধ্যাপক সায়েদুজ্জামান, ড. এমদাদুল হক, অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান, অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা, অধ্যক্ষ মো. হানিফ, অধ্যক্ষ আলমাস খান, অধ্যক্ষ আ. জলিল, অধ্যাপক আতিকুর রহমান পিউ, অধ্যাপক সুবল চন্দ্র দাস, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক হায়দারসহ অনেকে।

ঈদের পরে এসএসসি পরীক্ষা, তারিখ নির্ধারণ হয়নি - dainik shiksha ঈদের পরে এসএসসি পরীক্ষা, তারিখ নির্ধারণ হয়নি মিলিটারি ডিকটেটররা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha মিলিটারি ডিকটেটররা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতু: বড় পরিবর্তনের সুযোগ শিক্ষায় - dainik shiksha পদ্মাসেতু: বড় পরিবর্তনের সুযোগ শিক্ষায় প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : ফল পুনর্মূল্যায়ন চেয়ে ৫ পরীক্ষার্থীর রিট - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : ফল পুনর্মূল্যায়ন চেয়ে ৫ পরীক্ষার্থীর রিট বন্যা চলে গেলেই পরীক্ষা নেয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha বন্যা চলে গেলেই পরীক্ষা নেয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩ জুলাই থেকে বন্ধ মাধ্যমিক বিদ্যালয় - dainik shiksha ৩ জুলাই থেকে বন্ধ মাধ্যমিক বিদ্যালয় please click here to view dainikshiksha website