শিক্ষক হলেও কর্মকর্তার কাজেই ‘মজা’ পান তাঁরা - Dainikshiksha

শিক্ষক হলেও কর্মকর্তার কাজেই ‘মজা’ পান তাঁরা

শরীফুল আলম সুমন |

শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সাধারণত প্রেষণে আসেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। অথচ অনেকেই আছেন যাঁরা প্রশাসনে এসে তাঁদের মূল পেশা শিক্ষকতাই ভুলে গেছেন। অনেক শিক্ষকই ২০ বছর ধরে প্রশাসনে চাকরি করছেন। তদবিরের জোরে অনেক জুনিয়র কর্মকর্তা সিনিয়র পদও দখল করে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়েও বেশি সুবিধার জন্য নিরাপদে চাকরি করে যাচ্ছেন। অথচ সরকারি চাকরি বিধিমালায় তিন বছর পর পর কর্মকর্তাদের বদলি করার বিধান রয়েছে।

সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, এনসিটিবি, নায়েম, ডিআইএ, ঢাকা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষার বিভিন্ন প্রকল্পসহ একাধিক দপ্তরের অবস্থান রাজধানীতে। আর এসব দপ্তরেই ঘুরেফিরে একই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদ দখল করে রেখেছেন। একই দপ্তরে বছরের পর বছর থাকায় তাঁরা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসব কার্যালয়ে তদন্ত, বদলি, জাতীয়করণ, এমপিও, পরিদর্শন, টেন্ডার, কেনাকাটাসহ একাধিক খাতে দুর্নীতি বা মজা লোটার মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক ১৯৯৩ সালে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে ২০০৬ সালে ১০ শতাংশ কোটায় তিনি সরাসরি প্রফেসর পদলাভ করেন। কোটা পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষা  ক্যাডারে প্রবেশ করতে কোনও পরীক্ষা দিতে হয় না।  চাকরি জীবনের একটা বড় সময় তিনি সৌদি আরবের কিং খালেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেছেন। অনেক সিনিয়র শিক্ষক থাকার পরও বিসিএস ১৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে গত সরকারের শেষ সময়ে মহাপরিচালক বানানোয় সন্তুষ্ট নন অনেকেই।

মাউশি অধিদপ্তরের ছয়জন পরিচালকের মধ্যে চারজনই ঘুরেফিরে দীর্ঘদিন রয়েছেন শিক্ষা প্রশাসনে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা, প্রশিক্ষণ শাখা, মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন শাখা এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার পরিচালকদের নিয়ে নানা অসন্তোষ রয়েছে। তাঁরা রাজনীতিতেও অন্য ঘরানার বলে জানা যায়।

একজন পরিচালক ‘জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক’ নামে একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছিলেন।

মাউশি অধিদপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন শাখা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি তাদের হাতে। এ শাখায় একজন পরিচালক থাকলেও মূল কাজ করেন উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক। উপপরিচালক দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন এই দপ্তরে। বদলিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

কলেজ শাখার সহকারী পরিচালকদের অন্তত দুইজনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। তাঁদের কাছে কোনো কাজের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এঁদের মধ্যে একজন কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে ঘুরেফিরে ২০০৫ সাল থেকেই এই দপ্তরে রয়েছেন। এসিআর শাখার দুজন শিক্ষা অফিসারের কাছে একই বছরের এসিআর তিন-চারবার জমা দিতে হয়।

মাউশি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আইন শাখার শিক্ষা অফিসার (আইন-১) পদটি প্রভাষকদের। কিন্তু সহকারী অধ্যাপক হয়েও নিম্নপদে মু. আবুল কাসেম এই পদে রয়েছেন ২০০৫ সাল থেকে। একইভাবে সহকারী অধ্যাপক হয়েও মো. আল আমিন সরকার নিম্নপদে শিক্ষা অফিসার (আইন-২) পদে রয়েছেন।

মু. আবুল কাসেম বলেন, ‘আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। তারা যেভাবে ভালো মনে করেছে সেভাবেই পদায়ন করেছে। আর আইন শাখার ব্যাপারটিও জটিল। অন্য লোক খুঁজে পাওয়াও কষ্ট।’ 

সহকারী অধ্যাপক হয়েও মাধ্যমিক শাখায় নিম্নপদে শিক্ষা অফিসার হিসেবে মো. আফসার উদ্দিন রয়েছেন ২০১৩ সাল থেকে। মাধ্যমিক শাখায় সেসিপ (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রগ্রাম) থেকে আসা একজন সহকারী পরিচালক তদন্তের কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। ১৫ বছর ধরে ক্লাসরুমের বাইরে রয়েছেন।

জানা যায়, মাউশি অধিদপ্তরে কয়েকজন নারী কর্মকর্তার একটি গ্রুপ রয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রশিক্ষণ শাখার একজন সহকারী পরিচালক। গত কয়েক বছরে তিনি বদলিতে বড় ভূমিকা রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। এই শাখার উপপরিচালক (প্রকৌশল) অনেক অর্থ-বিত্তের মালিক বলে অভিযোগ রয়েছে।

কমার্শিয়াল সেলের সাইফুল ইসলাম শিক্ষা প্রশাসনে আছেন ১৪ বছর। আর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের ড. মাহবুবা ইসলাম পাতা ঘুরেফিরে আছেন প্রায় ১৮ বছর ধরে। ইএমআইএস সেলে গতি নেই। একই কাজ তাঁরা বারবার ভুল করেন। এইচআরএম শাখার উপপরিচালক প্রফেসর মুহম্মদ নাসির উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক আছেন দীর্ঘদিন ধরে। মুহম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে আমি রয়েছি। পদোন্নতি হলেও আমাদের নিম্নপদেই রেখে দেওয়া হয়েছে।’

একিউএইউ (সেসিপ) এর উপপরিচালক শিক্ষা প্রশাসনে রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সম্প্রতি তিনি একটি প্রকল্পের পিডি হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট শাখার দুজন সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ।

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাঁচ বছর ছিলেন টিচার্স ট্রেনিং কোয়ালিটি (টিকিউআই-২) প্রকল্পে। দুই মাস গ্যাপ দিয়ে গত নভেম্বরে তিনি ডিআইএ এর পরিচালক হিসেবে ফিরে আসেন। উপপরিচালক কীর্ত্তনীয়া ২০০৯ সালে যোগ দিয়েছিলেন ঢাকা বোর্ডে, এখন আছেন ডিআইএতে। শিক্ষা পরিদর্শক মো. ছালেহ উদ্দিন, মো. আব্দুস সালাম, মো. হেমায়েত উদ্দীন, টুটুল কুমার নাগ রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। সহকারী শিক্ষা পরিদর্শকদের মধ্যে রাকিবুল হাসান, মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। অডিট অফিসারদের মধ্যে চারজনই আছেন ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে। সারাদেশে ইংরেজি শিক্ষকের সংকট থাকলেও মো. আলমগীর হাসান ইংরেজির শিক্ষক হয়েও সম্প্রতি যোগদান করেছেন ডিআইএতে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেন, ‘সুশাসনের জন্য যেসব কর্মকর্তা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন এবং যাঁদের নিয়ে বারবার অভিযোগ আসছে তাঁদের সরানো দরকার বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে আমরা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। শিক্ষা ক্যাডারের অনেকের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বর্তমান বিধিবিধান অনুযায়ী বদলি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে এই ক্ষোভ অনেকাংশেই দূর হবে।’

 

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

শুক্রবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালো শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha শুক্রবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালো শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের এমপিওর চেক ছাড় গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম লামিয়া - dainik shiksha গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম লামিয়া প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহ - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহ ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াবে কাল - dainik shiksha ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াবে কাল চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী যা জানালেন - dainik shiksha চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী যা জানালেন গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৩৬.৩৩ শতাংশ - dainik shiksha গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৩৬.৩৩ শতাংশ কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0054540634155273