৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশে আর বাধা নেই : এনটিআরসিএ - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশে আর বাধা নেই : এনটিআরসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক |

৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করতে এনটিআরসিএ আবেদন গ্রহণ করেছে। এসব পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। আদেশটি ‘রিকল’ করা হয়েছে। তাই ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করতে আর কোন আইনি বাধা নেই বলে দৈনিক শিক্ষার প্রশ্নের জবাবে মন্তব্য করেছেন এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা। সোমবার (৩১ মে) ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থীর করা আদালত অবমাননার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের দেয়া রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এসব কথা বলেছেন।   

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক ১ থেকে ১২তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় আড়াই হাজার চাকরিপ্রার্থী যারা আদালত অবমাননার মামলা করেছেন, তাদের বিষয়ে রায় দিয়েছেন আদালত। রিটকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, এ প্রার্থীদের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করতে এনটিআরসিএর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

আর এনটিআরসিএর কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ের একটি অংশে বলা ছিল, এনটিআরসিএকে রিটকারী ও অন্যান্য আবেদনকারীদের অর্জিত সনদ ও নিয়োগের জাতীয় মেধাতালিকা অনুসরণ করে শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ করতে হবে। সে রায় ৪ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা বলছেন, সে রায় অনুসারেই এনটিআরসিএ চলমান ৩য় চক্রে ও ২য় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করেছে। তাই, আদালত অবমাননা হয়নি। 

কর্মকর্তারা আরও বলছেন, আদালত আদেশ দেয়ার পর গণবিজ্ঞপ্তিতে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয়েছে। তাই ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশে আর কোন বাধা নেই।   

সোমবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে দশটার দিকে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে চাকরি প্রত্যাশিদে পক্ষে অংশ নেন খুরশিদ আলম খান, মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া ও অন্যান্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। এনটিআরসিএর পক্ষে ছিলেন কামরুজ্জামান। পরে, বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে নিবন্ধনধারী চাকরি প্রত্যাশিদের আইনজীবী মোহাম্মাদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আদালত অবমাননার আবেদনকারীদের নিয়োগের সুপারিশ করতে বলা হয়েছে। এ সংখ্যাটি হবে প্রায় আড়াই হাজার।’

তিনি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে আরও বলেন, আদালত ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর আদালত ৭ দফা নির্দেশনা দিয়ে একটি রায় প্রকাশ করেছিল। সে রায়ের ৫ নম্বর নির্দেশনা মানা হয়নি দাবি করে ১ থেকে ১২ তম প্রার্থীর আদালত অবমাননার আবেদন করেছিলেন। সে আবেদনকারীদের ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর আদালত ৭ দফা নির্দেশনা দিয়ে দেয়া রায়ের ৫ নম্বর নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগ সুপারিশ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে এনটিআরসিএকে।  

জানা গেছে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ)  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন : দৈনিক শিক্ষাডটকম পরিবারের প্রিন্ট পত্রিকা ‘দৈনিক আমাদের বার্তা’

এ রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর আইন শাখার একজন কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেয়া রায়ের একটি অংশে বলা ছিল, এনটিআরসিএকে রিটকারী ও অন্যান্য আবেদনকারীদের অর্জিত সনদ ও নিয়োগের জাতীয় মেধাতালিকা অনুসরণ করে শূন্যপদে নিয়োগ সুপারিশ করতে হবে। সে রায় ৪ সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ রায়ের ৭ দফা নির্দেশনা অনুসারেই এনটিআরসিএ চলমান ৩য় চক্রে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন গ্রহণ ও ২য় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করেছে। এনটিআরসিএ আদালত অবমাননা করেনি। প্রার্থীরা জাতীয় মেধাতালিকা অনুসারে আবেদন করে নিয়োগ না পাওয়ায় আদলত অবমাননার আবেদন করেছিলেন। এনটিআরসিএ আদালতের নির্দেশনা অনুসারেই নিয়োগ সুপারিশ করছে। 

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন

এনটিআরসিএ'র আইনজীবী কামরুজ্জামান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, ১ম থেকে ১২তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিবন্ধনধারীদেরকে নিয়োগ দিতে গণবিজ্ঞপ্তি স্থগিতের আদেশ রি-কল করা হয়েছে। এ আদেশটি মডিফাই করে রিকল করেছেন আদালত। তাই নিয়োগ সুপারিশ করতে কোন বাধা নেই।

ফিরে দেখা যাক, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর আদালতের দেয়া ৭ দফা নির্দেশনার ৫ নম্বর দফায় কি বলাছিল। এ নির্দেশনায় বলা ছিল, The NTRCA is derected to purpose/recommend the names of the writ petioners and the other prospective applicants pursuant to the Non-Goverment Educational Institutions. However after appointment the Education Ministry or the Education Board on the application of the appointed teachers may allow the interchange of the teachers to their respective native school.

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল  SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

৪৩ লাখ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি-উপবৃত্তির হাজার কোটি টাকা বিতরণ শুরু - dainik shiksha ৪৩ লাখ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি-উপবৃত্তির হাজার কোটি টাকা বিতরণ শুরু এসএসসি-এইসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha এসএসসি-এইসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির : শিক্ষামন্ত্রী দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে - dainik shiksha দৈনিক আমাদের বার্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ৩০ শতাংশ ছাড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে ‘শিক্ষক-অভিভাবক’ সমাবেশ ২৬ জুন - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে ‘শিক্ষক-অভিভাবক’ সমাবেশ ২৬ জুন এনজিওর হাতে যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা! - dainik shiksha এনজিওর হাতে যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা! বিলের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র: এক চিঠিতেই আটকে গেল ভূমি অধিগ্রহণ - dainik shiksha বিলের মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র: এক চিঠিতেই আটকে গেল ভূমি অধিগ্রহণ ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেট ক্যামেরা, ফুটেজের ব্যবসা! - dainik shiksha ঢাকার রাস্তায় প্রাইভেট ক্যামেরা, ফুটেজের ব্যবসা! নির্মাণাধীন ম্যাটসে মেঝে ভরাটে বালুর পরির্বতে মাটি - dainik shiksha নির্মাণাধীন ম্যাটসে মেঝে ভরাটে বালুর পরির্বতে মাটি উচ্চশিক্ষার ক্ষতি পোষাতে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো ও ছুটি বাতিলের পরামর্শ - dainik shiksha উচ্চশিক্ষার ক্ষতি পোষাতে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো ও ছুটি বাতিলের পরামর্শ please click here to view dainikshiksha website