ব্যাংক ও কর অফিসের সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ এমপিও শিক্ষকরা - দৈনিকশিক্ষা

ব্যাংক ও কর অফিসের সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ এমপিও শিক্ষকরা

ইফতেখার মাহমুদ জামিল, সিলেট থেকে |

সিলেটে জনতা ব্যাংকের জালালাবাদ শাখার কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণে ক্ষুব্ধ এমপিও শিক্ষকরা। প্রথমবারের মত এমপিও শিক্ষকদের আয়করের আওতায় আনতে গিয়ে কর অফিস ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে মাসিক বেতনের বিল জমা দিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন শিক্ষকরা।

আয়কর কর্তনের ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না দেয়ায় পুরোনো পদ্ধতিতে বিল জমা দিতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার রোষানলে পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকেই বিল নিয়ে ফিরে গেছেন। বুধবার (৯ নভেম্বর) জনতা ব্যাংকের জালালাবাদ শাখায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, অক্টোবর মাসের এমপিও বেতনের বিলের অর্ডার জনতা ব্যাংকের জালালাবাদ শাখায় আসে গত রোববার। অর্ডারের পর সোম ও মঙ্গলবার শিক্ষকদের কাছ থেকে বেতনের বিল জমা রাখেন ঐ শাখার কর্মকর্তা এমদাদুল হক। পরবর্তিতে আবার ঐ কর্মকর্তা শিক্ষকদের জানান আয়কর কর্তন করে বিল জমা দেয়ার কথা বলেন। আয়কর কর্তনের ব্যাপারে ব্যাংকে কোন নির্দেশনা আসেনি বলে বিল জমা দিতে আসা শিক্ষক কর্মচারীদের কর অফিসে পাঠিয়ে দেন। এদিকে শিক্ষকরা কর অফিসে গেলে সেখানকার কর্মকর্তারা আয়কর প্রদানের হিসাব দেখিয়ে আবার ব্যাংকে পাঠিয়ে দেন। ফলে কর অফিস আর ব্যাংকে যাওয়া আসাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষকরা।

এছাড়া গত ২দিনে আয়কর কর্তন ছাড়া যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল জমা দিয়েছে তাদের বেতন প্রদানের ব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে মাসের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কবে বেতন পাবেন এমন হদিস পাচ্ছেন না শিক্ষকরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, মাউশি ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ধীর প্রক্রিয়ার কারণে বেতন তুলতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদেরকে। এখন আবার আয়করের আওতায় এনে ভোগান্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের আচরণে আমরা রীতিমত অবাক। বিল জমা দেয়া এবং বেতন তুলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হয়। এছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তা এমদাদুল হকের বেপরোয়া আচরণে তারা অতীষ্ট বলে জানান শিক্ষকরা।

সিলেট জেলা শিক্ষক সমিতির সচিব ও দি এইডেড হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. শমসের আলী বলেন, আয়করের ব্যাপারে আমরা কর কমিশনারের সাথে আলাপ করেছি। এ মাসে আয়কর কর্তন করে বেতন দেয়া যায় কিনা। তবে আয়কর কর্তন না করে অনেকে বিল জমা দিয়েছেন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেটা গ্রহণও করেছে।

জালালাবাদ শাখার কর্মকর্তা এমদাদুল হক এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদককে বলেন, “সরকারি টাকা খাবেন আর ট্যাক্স দিবেন না। যান আগে গিয়ে ট্যাক্স দেন তারপর কথা বলেন। আর কোন কথা না বলে চেয়ার থেকে উঠে চলে যান তিনি।”

এ ব্যাপারে জালালাবাদ শাখার ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জানান, আমি কর অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছি। অক্টোবর মাসের বেতন আয়কর কর্তন ছাড়া দেয়া যায় কিনা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম। কর্মকর্তা এমদাদুল হকের রুঢ় আচরণের ব্যাপারে তিনি জানান, আসলে সব তো সমান না। কাজের চাপে হয়তো রুঢ় কথাবার্তা বলে ফেলেছে। মানবিক দৃষ্ঠিকোন থেকে বিষয়টা বাদ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের সাথে রুঢ় আচরণ করা কোনভাবেই ঠিক হয়নি। কর্মকর্তা যেই হোন না কেন তার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক শাখায় ৪ উপজেলার শিক্ষকের বেতন প্রদানের ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি জানি। কিন্তু এটা আমাদের বিষয় না মাউশির সাথে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের আলোচনার দরকার। তবে জৈন্তাপুর ও দক্ষিণ সুরমার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন স্টেশন রোড শাখায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। কবে নাগাদ হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে জনতা ব্যাংকের কোন শাখা না থাকায় এ দুই উপজেলার শিক্ষকদের সিলেট সদর থেকে বেতন তোলতে হবে। তবে এখন সব শাখা অনলাইন করা হয়েছে। টাকা জমা হলে যেকোন শাখা থেকে তুলতে পারবে।

এ ব্যাপারে সিলেট অঞ্চলের কর কমিশনার সৈয়দ মো. আবু দাউদ বলেন, এমপিও শিক্ষকদের আয়কর জুলাই থেকে বকেয়াসহ এ মাসেই প্রদান করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক আগেই নির্দেশনা পাঠিয়েছি। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছেও চিঠি প্রেরণের ব্যবস্থা করছি।

উল্লেখ্য, সরকারি বেতন তুলতে দীর্ঘদিন দিন থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সিলেটের প্রায় ৪ হাজার এমপিও শিক্ষক কর্মচারিদের। ব্যাংক কর্মকর্তাদের রুঢ় আচরণ, কাজের অবহেলা, ধীরগতি ও অদক্ষতা, মাউশির গতিহীন বেতন প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার শিক্ষকরা।

সিলেট সদর, দক্ষিন সুরমা, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর একাউন্ট এ শাখায় থাকায় প্রতিমাসে বেতন নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষক-কর্মচারিদের।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রায় ১৮৯টি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীর সরকারি বেতন বিল আসে জনতা ব্যাংক সিলেটের জালালাবাদ শাখায়। ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১২টি কলেজ, ২৮টি মাদ্রাসা ও ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

চার উপজেলায় যারা নতুন এমপিওভূক্ত হন তাদেরকে মাউশি’র নির্দেশ অনুযায়ী জনতা ব্যাংকের এই শাখায় নতুন একাউন্ট খোলতে হয়। অন্য কোন ব্যাংকে হিসাব খুললে সেটা গ্রহণ যোগ্য নয় মাউশির কাছে। এছাড়া এমপিও শিক্ষকদের এক মাসের সরকারি বেতন শীট জনতা ব্যাংকে আসে পরের মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যেকের একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেয়। এতে করে শিক্ষকদের হাতে বেতন পৌছে মাসের ২০-২২ তারিখে।

শুক্রবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালো শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha শুক্রবার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হয়নি, জানালো শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের এমপিওর চেক ছাড় গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম লামিয়া - dainik shiksha গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম লামিয়া প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহ - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফল আগামী সপ্তাহ ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াবে কাল - dainik shiksha ছাত্রলীগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়াবে কাল চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী যা জানালেন - dainik shiksha চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রী যা জানালেন গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৩৬.৩৩ শতাংশ - dainik shiksha গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৩৬.৩৩ শতাংশ কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা : একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0040159225463867